ইডির আর্জি খারিজ! সুজিত বসুকে ‘প্রথম শ্রেণির বন্দি’র মর্যাদা দিল আদালত, জেলে ভিআইপি সুবিধা পাবেন প্রাক্তন মন্ত্রী

ইডির আর্জি খারিজ! সুজিত বসুকে ‘প্রথম শ্রেণির বন্দি’র মর্যাদা দিল আদালত, জেলে ভিআইপি সুবিধা পাবেন প্রাক্তন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসুর আইনি লড়াইয়ে এক বড়সড় স্বস্তি মিলল আদালতের রায়ে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (ED)-র জোরালো আপত্তি ও আর্জি সম্পূর্ণ খারিজ করে বৃহস্পতিবার বিশেষ আদালত সুজিত বসুকে ‘প্রথম শ্রেণির বন্দি’ (গ্রেড ওয়ান প্রিজনার) হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছে। ছাব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ক্ষমতা বদলের পর যখন একাধিক হেভিওয়েট নেতার জেল হেফাজত চলছে, তখন প্রাক্তন মন্ত্রীর এই আইনি জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

জেলে যে সব ভিআইপি সুবিধা পাবেন প্রাক্তন মন্ত্রী

আদালতের এই নতুন নির্দেশিকার ফলে সংশোধনাগারে সাধারণ বন্দিদের তুলনায় বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা পাবেন বেলেঘাটার প্রাক্তন বিধায়ক। ‘গ্রেড ওয়ান প্রিজনার’ হিসেবে সুজিত বসু জেলের ভেতরে পাবেন একটি সম্পূর্ণ আলাদা সেল বা ঘর, যার সঙ্গে থাকবে অ্যাটাচ বাথরুমের সুবিধা। এছাড়া তাঁর সেলে আলাদা খাট, পাখা, মশারি, চেয়ার-টেবিল, টুথপেস্ট ও টুথব্রাশের মতো প্রাত্যহিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করা হবে। প্রতিদিন পড়ার জন্য পাবেন খবরের কাগজ এবং আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে জেলের খাবারের পরিবর্তে তাঁর জন্য থাকবে সুনির্দিষ্ট বাড়ির খাবার পাওয়ার আইনি সুযোগ। তবে সুরক্ষার স্বার্থে তাঁর এই বিশেষ সেলে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি (CCTV) নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে।

ইডি-র আপত্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব

মামলা সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র তরফ থেকে সুজিত বসুকে এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার বিরুদ্ধে আদালতে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছিল। কেন্দ্রীয় এজেন্সির যুক্তি ছিল, দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগে ধৃত কোনো বন্দিকে এই ধরনের ভিআইপি সুবিধা দেওয়া হলে তদন্তের সমতা নষ্ট হতে পারে। তবে আদালত ইডি-র সেই সমস্ত যুক্তি খারিজ করে প্রাক্তন মন্ত্রীর সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা করে এই নির্দেশ দেয়।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের নতুন জমানায় যখন একের পর এক প্রাক্তন শাসকদলের নেতারা দুর্নীতির মামলায় শ্রীঘরে যাচ্ছেন, তখন সুজিত বসুর এই ‘প্রথম শ্রেণির বন্দি’র তকমা পাওয়া অন্যান্য ধৃত হেভিওয়েট নেতাদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে রইল। এর ফলে আগামী দিনে অন্যান্য মামলায় বন্দি থাকা প্রাক্তন মন্ত্রী বা বিধায়কেরাও জেলে একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন, যা সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের ওপর প্রশাসনিক চাপ বাড়াবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *