ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী বানানোর অন্ধ মোহে ছিলেন মমতা! অভিষেককে ওড়িশার জেলে পাঠানোর দাবি বিদ্রোহী হুমায়ুনের

ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী বানানোর অন্ধ মোহে ছিলেন মমতা! অভিষেককে ওড়িশার জেলে পাঠানোর দাবি বিদ্রোহী হুমায়ুনের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা নজিরবিহীন গণ-বিদ্রোহের আগুনে এবার ঘৃতাহুতি দিলেন বর্ষীয়ান নেতা তথা বর্তমান এআইইউজেএফ (AIUJF) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও জাভেদ খানের পর এবার দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। দলনেত্রীর ‘পুত্রস্নেহ’ তথা একনায়কতন্ত্রের কড়া সমালোচনা করার পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবি তুলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন এই প্রবীণ রাজনীতিক।

‘অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মতো ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে মগ্ন ছিলেন মমতা’

তৃণমূলের এই ঐতিহাসিক পতনের জন্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। দলনেত্রীর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব এবং পারিবারিক তোষণের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে, ভাইপোকে বেশি, অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মতো পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বানানোর মোহে মুগ্ধ ছিলেন। আমাদের মতো প্রবীণ বা অভিজ্ঞ নেতাদের কোনো কথাই তিনি বিগত দিনে শোনেননি।” হুমায়ুনের সাফ দাবি, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই একগুঁয়েমি এবং অন্ধ পারিবারিক রাজনীতির কারণেই আজ তৃণমূল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে এবং এর জন্য নিজে সম্পূর্ণ দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অভিষেককে গ্রেফতার করে ওড়িশায় পাঠানো হোক’

দলনেত্রীকে আক্রমণের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন হুমায়ুন কবীর। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দল ধ্বংসের কারিগর হিসেবে অভিষেককে দেগে দিয়ে তিনি বলেন, “যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে গারদে ঢুকিয়ে দেওয়া দরকার। ওনাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে এরাজ্যের বাইরে, ওড়িশার কোনো জেলে পাঠিয়ে দেওয়া দরকার।”

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক মহলের মতে, ছাব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূলের অন্দরে যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছিল, হুমায়ুন কবীরের এই বিস্ফোরক বয়ান তারই ধারাবাহিকতা। একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতাদের এই একের পর এক প্রকাশ্য বিদ্রোহ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, দলে মমতা বা অভিষেকের জমানার কার্যত অবসান ঘটেছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে, বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই তৃণমূলের বাকি অংশটুকুও সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ার মুখে পড়ল। বিশেষ করে অভিষেকের গ্রেফতারি নিয়ে হুমায়ুনের এই দাবি আগামী দিনে জোড়াফুল শিবিরের আইনি ও রাজনৈতিক অস্বস্তিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *