দুর্নীতিগ্রস্তদের হাত-পা না কেটে মস্ত ভুল করেছেন দিদি! বিস্ফোরক বাবুল সুপ্রিয়

দুর্নীতিগ্রস্তদের হাত-পা না কেটে মস্ত ভুল করেছেন দিদি! বিস্ফোরক বাবুল সুপ্রিয়

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জন বিধায়কের সমান্তরাল পরিষদীয় দল গঠনের জেরে জোড়াফুল শিবিরের ভাঙন যখন চরমে, ঠিক তখনই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে এক নজিরবিহীন ও চরমতম বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দলেরই রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা না নিয়ে মস্ত বড় ভুল করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যার খেসারত আজ দলকে দিতে হচ্ছে।

‘অপরাধীদের হাত-পা কেটে না ফেলে গুরুতর ভুল করেছেন দিদি’

বিগত তৃণমূল সরকারের জমানায় চলা দুর্নীতি এবং তার বিরুদ্ধে শীর্ষ নেতৃত্বের নমনীয় অবস্থানকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় তিনি নিজের সমাজমাধ্যমের দেওয়ালে লিখেছেন, “দিদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে যারা দুর্নীতি, সরকারি তহবিল তছরুপ বা সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের হাত-পা কেটে না ফেলে তিনি নিশ্চয়ই গুরুতর ভুল করেছেন। আর সেই কারণেই আজ পরিস্থিতি এতটা জটিল রূপ নিয়েছে।”

বিদ্রোহী ‘৬০’ জন আসলে দুর্নীতিগ্রস্ত, দাবি বাবুলের

দলনেত্রীর সমালোচনা করার পাশাপাশি বর্তমানে তৃণমূল ছেড়ে ঋতব্রতর শিবিরে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী বিধায়কদেরও তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন বাবুল। দলত্যাগীদের নিশানা করে তিনি লেখেন, “অতীতে যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এখন তাদের অনেকেই সেই ৬০ জনের তালিকায় আছেন। আর বাকিদের মধ্যে অন্যদের হয় এবার নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ভোটে হারিয়ে দিয়েছে, অথবা তারা নিজেদের পাপের কারণে জেলে যাচ্ছেন।” বাবুল সুপ্রিয়র এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিল যে, দলত্যাগী ওই ৬০ জন বিধায়ককে তিনি স্রেফ দুর্নীতিবাজ ও সুবিধাবাদী ছাড়া আর কিছুই মনে করছেন না।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূলের অন্দরে যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা জমে ছিল, বাবুল সুপ্রিয়র এই পোস্টের মাধ্যমে তা এক হিংস্র ও নগ্ন আকারে প্রকাশ পেল। একদিকে জাভেদ খান বা হুমায়ুন কবীরের মতো প্রবীণরা যখন অভিষেক বা মমতার একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন, তখন বাবুল সুপ্রিয় দলের ভাঙনের জন্য দলনেত্রীর ‘দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া’র নীতিকে দায়ী করছেন।

এই বক্তব্যের সম্ভাব্য প্রভাব হতে পারে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। প্রথমত, একজন বর্তমান সাংসদের মুখে নিজের দলেরই প্রাক্তন সরকারের দুর্নীতি নিয়ে এমন স্বীকারোক্তি নতুন শাসক শিবিরের হাতকে আরও শক্ত করবে। দ্বিতীয়ত, দলত্যাগী বিধায়কদের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে দেগে দেওয়ায় বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ও রাজনৈতিক তিক্ততা এক নজিরবিহীন স্তরে পৌঁছে গেল, যা তৃণমূলের অবশিষ্ট সংগঠনকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *