ঋতব্রতর তৃণমূল ভাঙার হিম্মত নেই, নেপথ্যে অমিত শাহ ও শুভেন্দু! বিস্ফোরক দাবি শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতের

নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন ঐতিহাসিক ভাঙন নিয়ে এবার জাতীয় রাজনীতিতেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জন বিধায়ক সমান্তরাল পরিষদীয় দল গঠন করে দল হাইজ্যাক করার পর থেকেই জল্পনা চলছিল, এই মাস্টারপ্ল্যানের নেপথ্যে আসলে কে বা কারা রয়েছেন। এবার সেই ধোঁয়াশা একপ্রকার কাটিয়ে সরাসরি মোদী-শাহের শিবিরের দিকে আঙুল তুললেন শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) দলের প্রবীণ সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তাঁর স্পষ্ট দাবি, একা ঋতব্রতের এই দল ভাঙার মতো কোনো ক্ষমতাই নেই, এর পুরো কলকাঠি নাড়া হয়েছে দিল্লি ও নবান্ন থেকে।

‘দেড় বছর রাজ্যসভায় দেখেছি, ঋতব্রতের সেই যোগ্যতাই নেই’

তৃণমূলের এই আকস্মিক সাংগঠনিক বিপর্যয় নিয়ে মুখ খুলতে গিয়ে শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। বিস্ফোরক দাবি করে তিনি বলেন, “আমি রাজ্যসভায় দেড় বছর ধরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুব কাছ থেকে দেখেছি। ওঁর রাজনৈতিক পরিপক্বতা বা গভীরতা কতটা, তা আমার জানা। ওঁর মধ্যে একা একটা আস্ত তৃণমূলের মতো শক্তিশালী দল ভেঙে ফেলার মতো কোনো হিম্মত বা যোগ্যতা নেই।” রাউতের এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিল যে, বাইরে ঋতব্রতকে মূল কাণ্ডারি হিসেবে দেখানো হলেও, ভেতরের সমীকরণটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

পর্দার আড়ালে অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারী

তৃণমূল ভাঙার এই হাই-প্রোফাইল ‘খেলা’র আসল কারিগরদের নামও জনসমক্ষে এনেছেন সঞ্জয় রাউত। বিরোধী শিবিরের এই সাংসদের দাবি, এই পুরো অপারেশনটির ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছিল অনেক আগেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “তৃণমূলের এই ভাঙনের পেছনে থেকে আসলে যিনি কলকাঠি নেড়েছেন, তিনি হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজ্যে তাঁর প্রধান সেনাপতি তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।” রাজনৈতিক মহলের মতে, গত ২২ মে দিল্লির বঙ্গভবনে শুভেন্দু ও ঋতব্রতের সেই বহুল চর্চিত ৪০ সেকেন্ডের ‘কাকতালীয়’ মোলাকাত যে আসলে এক সুগভীর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ ছিল, সঞ্জয় রাউতের বয়ানে সেটাই আজ সিলমোহর পেল।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাব্বিশের পটপরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনায়কতন্ত্র ও দুর্নীতি নিয়ে যে তীব্র ক্ষোভ ও রক্তক্ষরণ চলছিল, তাকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে প্রবীণ নেতাদের নিজেদের পক্ষে টানার পেছনে দিল্লির চাণক্য নীতি কাজ করেছে।

সঞ্জয় রাউতের এই বিস্ফোরক দাবির সম্ভাব্য প্রভাব হতে পারে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। একদিকে, ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন নতুন ৬০ জন বিধায়কের পরিষদীয় দলকে স্রেফ ‘বিজেপির পুতুল’ বলে দেগে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে গেল তৃণমূলের অবশিষ্ট অংশ। অন্যদিকে, এই ঘটনার ফলে জাতীয় স্তরে বিরোধী জোটের অন্দরে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘দল ভাঙানোর রাজনীতি’র অভিযোগ আরও জোরদার হবে। তবে বাংলায় তৃণমূলের এই ভাঙন যে স্রেফ রাজ্য স্তরের কোনো নেতার ক্ষোভ নয়, বরং দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের নিখুঁত ও পরিকল্পিত কৌশলের ফসল, তা প্রতিষ্ঠা করে নতুন সরকারের ভিতকে আরও মজবুত করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *