মালদায় বিচারকদের আটকে বিক্ষোভের ঘটনায় এবার সক্রিয় এনআইএ, গ্রেফতার আরও ২ অভিযুক্ত

পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কর্মসূচি চলাকালীন সৃষ্ট নজিরবিহীন হিংসার ঘটনায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়াল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। বিক্ষোভ, জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগে এবার আরও দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ধৃতদের নাম মৌলানা ইমরান আলি এবং রিঙ্কু শেখ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই স্পর্শকাতর মামলার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এনআইএ-এর তৎপরতা তুঙ্গে।
তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধৃত দুই ব্যক্তি এপ্রিল মাসে মালদায় সংঘটিত ওই হিংসাত্মক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। প্রশাসনিক কাজে বাধা দেওয়া, ভয় দেখানো এবং বেআইনি জমায়েত করার ক্ষেত্রে এদের ভূমিকা স্পষ্ট হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভ চলাকালীন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের ওপর যে জনতা হামলা চালিয়েছিল, তার মধ্যেও এই দুজন অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল বলে এনআইএ-এর বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। উগ্র রূপ নেওয়া ওই হামলায় একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন এবং বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথরের আঘাতে এক পুলিশ বাস চালক মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
তদন্তের অগ্রগতি ও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সন্ধান
মালদা কাণ্ডের ভয়াবহতা বিবেচনা করে এই হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যার ফলস্বরূপ ইতিমধ্যে চারটি মামলায় চার্জশিট পেশ করা সম্ভব হয়েছে। এই সামগ্রিক হিংসার ঘটনায় বর্তমানে মোট ৩৫ জন অভিযুক্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে এবং বাকি মামলাগুলির তদন্ত জোরকদমে চালানো হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার এই ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় কোনো রাজনৈতিক ইন্ধন বা আইন প্রশাসনকে স্তব্ধ করার মতো কোনো বৃহত্তর গভীর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। এই হিংসাত্মক ঘটনার মূল কারণ ও এর সাথে যুক্ত অন্যান্য বাকি অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য। বিচার ব্যবস্থার শীর্ষ আধিকারিকদের ওপর এই ধরনের হামলা ও সড়ক অবরোধের জেরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।