রাম চরণের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও কি বাঁচাতে পারল না পেড্ডিকে!

রাম চরণের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও কি বাঁচাতে পারল না পেড্ডিকে!

‘উপ্পেনা’ খ্যাত পরিচালক বুচি বাবু সানা এবং তেলুগু সুপারস্টার রাম চরণের জুটিকে ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। সামাজিক বার্তা, খেলাধুলার আবেগ এবং গ্রামীণ ভারতের এক নির্মম বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘পেড্ডি’। তবে উচ্চাভিলাষী ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দুর্বল চিত্রনাট্য এবং নির্মাণশৈলীর ত্রুটির কারণে ছবিটি একটি আসাম্পূর্ণ সম্ভাবনার গল্প হয়েই রয়ে গেল।

পরিচয়ের লড়াই ও রাম চরণের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

ছবির মূল শক্তি এর অনন্য গল্পভাবনা। এমন এক গ্রামের গল্প এখানে বলা হয়েছে, যার কোনো সরকারি স্বীকৃতি, ভোটার কার্ড বা ঠিকানা নেই। এই নামহীন গ্রামের বাসিন্দা এবং অসাধারণ ক্রীড়া প্রতিভার অধিকারী যুবক ‘পেড্ডি’র চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাম চরণ। নিজের প্রতিভাকে ব্যক্তিগত সাফল্যের বদলে গ্রামের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে রূপান্তর করার সিদ্ধান্তই গল্পের মূল ভিত্তি। ২০১৬ সালের একটি ফ্রেমিং ডিভাইসের মাধ্যমে অলিম্পিকে ব্যর্থতার পর সরকারি প্রতিনিধির গ্রামে আগমন এবং পেড্ডির জীবনসংগ্রামের উন্মোচন ঘটে।

রাম চরণ তাঁর শারীরিক পরিবর্তন, সংযত আবেগ এবং শক্তিশালী পর্দা উপস্থিতির মাধ্যমে পুরো ছবিকে টেনে নিয়ে গেছেন। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের একটি হাসপাতালের দৃশ্যে তাঁর অভিনয় ‘রঙ্গস্থলম’-এর পর অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে পরিগণিত হবে। পাশাপাশি গ্রামের প্রবীণ নেতার ভূমিকায় জগপতি বাবু এবং স্বল্প সময়ের উপস্থিতিতে শিব রাজকুমার অনবদ্য অভিনয় করেছেন। কারিগরি দিক থেকে এ আর রহমানের সুর ও আবহসংগীত এবং রত্নাভেলুর সিনেমাটোগ্রাফি গ্রামীণ পরিবেশ ও ক্রীড়ামুহূর্তগুলোকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

দুর্বল চিত্রনাট্য ও অতিরিক্ত দৈর্ঘ্যের ধাক্কা

প্রশংসনীয় উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও ছবির মূল দুর্বলতা এর প্রথমার্ধ এবং ১৮৯ মিনিটের দীর্ঘ দৈর্ঘ্য। নায়কোচিত প্রবেশ এবং অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক উপাদানের চক্করে ছবির প্রথমার্ধের প্রায় এক ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছে। জানভি কাপুরের চরিত্রটিতে গভীরতার অভাব ছিল এবং পেড্ডির সঙ্গে তাঁর পুরনো ধাঁচের অস্বস্তিকর প্রেমের গল্পটি মূল প্লটের গতি কমিয়ে দিয়েছে।

চিত্রনাট্যটি স্বতঃস্ফূর্ত হওয়ার চেয়ে অতিরিক্ত অতিরঞ্জিত আবেগ এবং চমকনির্ভর মোড়ের ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিল। বোমান ইরানির চরিত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি ফ্রেমিং ডিভাইসটিও গল্পকে পর্যাপ্ত শক্তি দিতে পারেনি। ফলে একটি বড় সামাজিক বার্তাকে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করলেও দুর্বল চিত্রনাট্য, অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘতা এবং ত্রুটিপূর্ণ উপাদানের কারণে ‘পেড্ডি’ শেষ পর্যন্ত একটি আসাম্পূর্ণ সম্ভাবনার গল্প হিসেবেই থমকে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *