প্রথমে অপছন্দ হলেও পরে গোবিন্দার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়েছিলেন পাহলাজ, মেন্টরকে হারিয়ে আবেগঘন বলিউড

বলিউডের খ্যাতনামা প্রযোজক এবং কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র বোর্ডের (সেন্সর বোর্ড) প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাহলাজ নিহালানির প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্র মহলে। ৭৬ বছর বয়সে তাঁর এই চলে যাওয়া ভারতীয় সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটাল। তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়ে বলিউড তারকা গোবিন্দা প্রয়াত প্রযোজকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং নিজেদের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
মাটি থেকে আকাশে তোলার কারিগর
পাহলাজ নিহালানিকে নিজের কর্মজীবনের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে উল্লেখ করেছেন গোবিন্দা। তিনি জানান, তাঁর মতো বহু দরিদ্র ও সাধারণ পটভূমি থেকে আসা শিল্পীদের বলিউডে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পেছনে এই দূরদর্শী প্রযোজকের অবদান ছিল অপরিসীম। নিহালানির এই বিশেষ ক্ষমতাকে ঐশ্বরিক আখ্যা দিয়ে গোবিন্দা জানান, অন্তত এক ডজন শিল্পীকে শূন্য থেকে খ্যাতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। ‘ইলজাম’, ‘শোলা অউর শবনম’ এবং ‘আঁখেন’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবিতে এই জুটির কাজ বলিউডের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে রয়েছে।
অনাগ্রহ থেকে জুটির রসায়ন ও তার প্রভাব
ক্যারিয়ারের শুরুতে অবশ্য গোবিন্দাকে নিয়ে নিহালানির অভিজ্ঞতা ভিন্ন ছিল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, প্রথম দেখায় গোবিন্দার চেহারা তাঁর পছন্দ হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে গোবিন্দার অসাধারণ নাচ, অ্যাকশন এবং অভিনয়ের বহুমুখিতা দেখে তিনি মুগ্ধ হন এবং তাঁকে কাস্ট করার সিদ্ধান্ত নেন। বিশেষ করে গোবিন্দার ক্যারিয়ারের সংকটাপন্ন সময়ে ‘শোলা অউর শবনম’ ছবিতে তাঁকে দিয়ে প্রথমবার কমেডি করানো এবং পরবর্তীতে ‘আঁখেন’ সিনেমা উপহার দেওয়া গোবিন্দার চকোলেট বয় ইমেজ ভেঙে একজন সফল বাণিজ্যিক তারকায় রূপান্তর ঘটাতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিল।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, পাহলাজ নিহালানির প্রস্থান বলিউডের সেই স্বর্ণযুগের অবসানকে আরও ত্বরান্বিত করল, যেখানে একজন প্রযোজক কেবল ব্যবসাই বুঝতেন না, বরং খাঁটি জহুরির মতো প্রতিভা চিনে তাকে বিকশিত করার ঝুঁকি নিতেন। তাঁর অনুপস্থিতি ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন প্রতিভাদের মেন্টরশিপের ক্ষেত্রে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে।