পতন হলো বিশ্বাস ব্রাদার্সের ক্ষমতার আস্ফালনের, স্বরূপ গ্রেপ্তার হতেই উৎসবের মেজাজ টলিপাড়ায়

পতন হলো বিশ্বাস ব্রাদার্সের ক্ষমতার আস্ফালনের, স্বরূপ গ্রেপ্তার হতেই উৎসবের মেজাজ টলিপাড়ায়

স্টুডিও পাড়ায় দীর্ঘদিনের তোলাবাজি এবং স্বৈরাচারী দাদাগিরির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। রিজেন্ট পার্ক এলাকার এক মেকআপ আর্টিস্টের শ্লীলতাহানি এবং টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর কর্মীদের কাছ থেকে তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এই খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়া এলাকাবাসী থানার সামনে জড়ো হয়ে ‘চোর চোর’ স্লোগানে ধিক্কার জানায়। দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়ার শিল্পীদের একাংশের ওপর যে ‘অপশাসন’ ও ‘ব্যান কালচার’ বা নিষিদ্ধকরণের রাজনীতি চালানো হচ্ছিল, স্বরূপের পতনে তার অবসান ঘটল বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

অনির্বাণের মিম ও টলিউডের স্বস্তি

স্বরূপ বিশ্বাসের অরাজকতার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য সহ একাধিক প্রতিভাবান শিল্পী। স্বরূপ গ্রেপ্তার হতেই নেটদুনিয়ায় অনির্বাণের বিভিন্ন ছবির দৃশ্য ব্যবহার করে তৈরি মজার মিম ভাইরাল হয়েছে। বিশেষ করে ‘শাহজাহান রিজেন্সি’র জনপ্রিয় গান ‘না না কিছ্ছু চাইনি আমি’ লাইনের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি মিমগুলো সমাজমাধ্যমে সাড়া ফেলেছে। অভিনেতা নিজেও ফুরফুরে মেজাজে তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়ে রঘু ডাকাতের সেই গান, “রাখুন সাথে তারা তুই খাঁড়া হাতে বিপত্তারিণী আমাদের” গেয়ে পরোক্ষভাবে স্বরূপকে তীব্র খোঁচা দিয়েছেন। তৎকালীন ফেডারেশনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সুপারস্টার দেব তাঁর ‘রঘু ডাকাত’ এবং নতুন প্রজেক্ট ‘দেশু ৭’-এ অনির্বাণকে কাস্ট করিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন।

টলিউডের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব

স্বরূপ বিশ্বাসের এই পতন এবং রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এক বড়সড় কাঠামোগত বদল আসতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘ব্যান কালচার’ বা শিল্পীদের কোণঠাসা করার নোংরা রাজনীতি এখন শেষের মুখে। বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিতে আর কোনো একচেটিয়া ফেডারেশন বা গিল্ডের অস্তিত্ব থাকবে না, বরং কাজের পরিবেশ আরও উন্মুক্ত ও পেশাদার হবে। অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষও জানিয়েছেন যে ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যক্তিগত মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও কাউকে জোর করে কাজ থেকে বয়কট করার সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে, যা আগামী দিনে নতুন ও স্বাধীন প্রতিভাদের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *