মাত্র ৩২ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার কেএস ভরত!

মাত্র ৩২ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার কেএস ভরত!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় বড় ইনিংস খেলার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার কেএস ভরতের। ঋদ্ধিমান সাহা জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর ভারতের টেস্ট দলে নিয়মিত সুযোগ আসলেও, প্রত্যাশার চাপ ও ধারাবাহিকতার অভাবে আন্তর্জাতিক কেরিয়ার দীর্ঘ করতে পারলেন না অন্ধ্রপ্রদেশের এই তারকা। মাত্র ৩২ বছর বয়সে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাঁর এই আকস্মিক অবসরের সিদ্ধান্ত ক্রিকেট মহলকে চমকে দিয়েছে।

ঘরোয়া ক্রিকেটের মহাতারকা ও বিশ্ব টেস্ট ফাইনালে লড়াই

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভরতের অভিষেক ঘটে ২০২৩ সালে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। ভারতের হয়ে মোট ৭টি টেস্ট খেলে ২২১ রান করেছেন তিনি, যেখানে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান ৪৪। বড় রানের খরা থাকলেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চাপের মুখে টেল-এন্ডারদের নিয়ে তাঁর লড়াকু ২৩ রানের ইনিংসটি ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থাকবে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আশানুরূপ না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ভরত ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১০৫টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে ৫,৬৮৬ রান করা এই ব্যাটারের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৩০৮ রান। রনজি ট্রফির ইতিহাসে প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক নজির রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

আইপিএল অধ্যায় ও অবসরের কারণ

ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি আইপিএলেও দীর্ঘ পথ চলেছেন ভরত। ২০১৫ সালে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের মাধ্যমে আইপিএল যাত্রা শুরু হলেও ২০২১ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে তাঁর অভিষেক হয়। ২০২৪ সালের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) স্কোয়াডে তিনি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও মূল একাদশে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। সামগ্রিকভাবে আইপিএলে ১০ ম্যাচে ১৯৯ রান করেছেন তিনি। মূলত জাতীয় দলে তরুণ ক্রিকেটারদের উত্থান এবং নিজে পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েও আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাটিং গড় (২০.০৯) উন্নত করতে না পারার কারণেই তিনি কেরিয়ারের মধ্যগগনে এসে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগঘন এক বার্তায় নিজের অবসরের ঘোষণা দিয়ে ভরত তাঁর দীর্ঘ দুই দশকের ক্রিকেট যাত্রায় পাশে থাকার জন্য পরিবারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সাথে ভারতীয় দলে খেলার সুযোগ পাওয়ার জন্য তৎকালীন অধিনায়ক বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা এবং কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই ক্রিকেটার। ভরতের এই প্রস্থান ঘরোয়া ক্রিকেটে এক বড় শূন্যতা তৈরি করবে, তবে তাঁর ট্রিপল সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

View this post on Instagram

A post shared by K S Bharat (@konasbharat)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *