সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে মাইগ্রেনকে অবহেলা করছেন? দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে আপনার ব্রেন!

সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে মাইগ্রেনকে অবহেলা করছেন? দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে আপনার ব্রেন!

মাইগ্রেন বা আধকপালি মাথার যন্ত্রণাকে আমরা অনেকেই সাময়িক সমস্যা ভেবে অবহেলা করি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই যথেচ্ছ ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে তা চেপে রাখি। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক একটি গবেষণা এই অবহেলার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সতর্কতা জারি করেছে। বিজ্ঞানভিত্তিক নামী জার্নাল ‘ব্রেন কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে গবেষকেরা জানিয়েছেন, মাইগ্রেন—বিশেষ করে ‘ক্রনিক মাইগ্রেন’-এর সমস্যা একজন মানুষের মস্তিষ্কের বয়স স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষমতা নষ্ট ও শারীরিক অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত এই স্নায়বিক সমস্যাটি দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের কাঠামোগত স্বাস্থ্যের ওপর গভীর ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

মস্তিষ্কের বয়স বাড়ছে চার বছরেরও বেশি

আধুনিক এমআরআই (MRI) স্ক্যান এবং ‘মেশিন-লার্নিং’ প্রযুক্তির সাহায্যে ১১০ জন মাইগ্রেন আক্রান্ত ও ৭০ জন সুস্থ মানুষের মস্তিষ্কের জৈবিক বয়স পরীক্ষা করে চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় দেখা গেছে, মাইগ্রেন আক্রান্তদের মস্তিষ্কের বয়স সাধারণ মানুষের তুলনায় গড়ে প্রায় ৪.২৪ বছর বেশি বুড়ো হয়ে যায়। এই ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়েছে ক্রনিক মাইগ্রেন রোগীদের ক্ষেত্রে, যাঁরা মাসে ১৫ দিন বা তার বেশি সময় এই যন্ত্রণায় ভোগেন। চিকিৎসকেরা মস্তিষ্কের এমন ৬৬টি নির্দিষ্ট অংশ চিহ্নিত করেছেন—যা ব্যথা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, স্মৃতিশক্তি ও চিন্তা ভাবনার সাথে জড়িত—যেখানে দ্রুত বয়স বাড়ার লক্ষণ দেখা গেছে। ঘনঘন মাইগ্রেন অ্যাটাকের ফলে সৃষ্ট তীব্র স্ট্রেস, প্রদাহ এবং সংবেদনশীল অংশের পুনরাবৃত্তিমূলক পরিবর্তনের কারণে মস্তিষ্কের কোষ ও গঠনে এই স্থায়ী ক্ষয় বা পরিবর্তন ঘটে।

প্রতিরোধের উপায় ও চিকিৎসকদের পরামর্শ

গবেষকেরা অবশ্য স্পষ্ট করেছেন যে এই ফলাফল দেখে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, কারণ মাইগ্রেনই সরাসরি ব্রেন বুড়ো করে দিচ্ছে এমন কার্যকারণ সম্পর্ক এখনও নিশ্চিত নয়। উপরন্তু, অনিদ্রা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ডিপ্রেশন এবং যত্রতত্র ওষুধ খাওয়ার অভ্যাসও এই ব্রেন এজিং-এর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এই ক্ষতি রুখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিজে নিজে পেইন কিলার খাওয়া বন্ধ করে দ্রুত একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের (Neurologist) শরণাপন্ন হয়ে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। একই সাথে, যেসব কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ে (যেমন তীব্র রোদ, খালি পেটে থাকা বা অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম) তা এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত সুনির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর মতো লাইফস্টাইল মডিফিকেশন অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *