তৃণমূলে এবার লোকসভা ভাঙনের অশনি সংকেত! মমতার ব্যর্থতা নিয়ে বিস্ফোরক কাকলি

বিধানসভার পরিষদীয় দলে আড়াআড়ি ফাটলের পর এবার দিল্লির সংসদীয় দলেও কি একই ভাঙনের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে? বারাসাতের চার বারের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সাম্প্রতিক বিস্ফোরক মন্তব্য এবং রাজনৈতিক পদক্ষেপের জেরে এই জল্পনা এখন তুঙ্গে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়ে কাকলি দেবী এবার দলের ভরাডুবির জন্য সরাসরি নেত্রীর ‘ব্যর্থতা’ ও সরকারের নীতিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন।
ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, পুত্র টিকিট না পাওয়াতেই ‘বেসুরো’ হয়েছেন কাকলি। এর জবাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বারাসাতের সাংসদ লিখেছেন, চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন নেত্রী কেবল নিজের কথা ভাবছেন, এমনটা নয়; বরং বিগত নির্বাচনে সাধারণ মানুষ সরকারের নীতি ও ব্যর্থতার বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছে। একই সঙ্গে স্কটিশ কবির লাইন উদ্ধৃত করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, কর্তব্যের খাতিরে শত্রু তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।
মুখ্য সচেতকের পদ হারানো এবং মান-অভিমান
দীর্ঘ চার দশক ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ছাত্র রাজনীতির আমল থেকে শুরু হওয়া এই সম্পর্কে বড়সড় ফাটল ধরে সম্প্রতি। লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের ‘মুখ্য সচেতক’ (Chief Whip) পদ থেকে কাকলিকে সরিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেন মমতা। পদ হারিয়েই সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে কাকলি লিখেছিলেন, “চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।” এরপরই কল্যাণের সঙ্গে তাঁর বাগযুদ্ধ ও লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠানোর ঘটনা সংঘাতকে আরও উস্কে দেয়।
দলবদলের জল্পনা ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের অন্দরে এই ডামাডোলের মধ্যেই কাকলি দেবীর বিজেপি ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নদিয়ার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে বড় ইঙ্গিত বহন করছে।
ইতিমধ্যেই বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দল কার্যত দুই টুকরো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন ৫৯ জন তৃণমূল বিধায়ক। লোকসভাতেও দলের একটা বড় অংশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মানতে নারাজ বলে গুঞ্জন রয়েছে। ফলে বিধানসভার সেই একই ‘বিদ্রোহী মডেল’ এবার লোকসভাতেও থাবা বসাতে পারে, যার কেন্দ্রে থাকতে পারেন ক্ষুব্ধ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সম্ভাব্য ভাঙন জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের শক্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।