হকার উচ্ছেদে রেলকে বড় ধাক্কা দিল কলকাতা হাই কোর্ট, দিতে হবে বিকল্প জায়গা!

রাজ্যের একাধিক রেল স্টেশন চত্বর থেকে হকার উচ্ছেদের অভিযানের ওপর বড়সড় স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগাঁ, দুর্গনগর, মথুরাপুর ও যাদবপুরসহ বিভিন্ন স্টেশনে রেলের উচ্ছেদ নোটিসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী জুন মাস পর্যন্ত নতুন করে কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাময়িকভাবে বড়সড় স্বস্তি পেলেন হাজার হাজার হকার ও তাদের পরিবার।
জীবিকার অধিকার ও মানবিক সংকট
মামলাকারীদের আইনজীবীদের দাবি, হঠাৎ বুলডোজার চালিয়ে হকার উচ্ছেদ করার এই প্রক্রিয়া প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার এবং কর্মসংস্থানের মৌলিক অধিকারকে চরমভাবে লঙ্ঘন করে। স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা, ঝুপড়ি দোকান বা ঠেলা গাড়ি চালিয়েই এই বিপুল সংখ্যক মানুষ জীবনধারণ করেন। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী আইনি পর্যবেক্ষণের সূত্র ধরে আদালতে জানানো হয়, দীর্ঘ দুই-তিন দশক ধরে যারা রেলের জমিতে ব্যবসা করছেন, তাদের পুনর্বাসন না দিয়ে আকস্মিক উচ্ছেদ করা যায় না। এমনকি বারুইপুর ও ডানকুনির মতো এলাকায় বহু বছর ধরে বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও হকারদের সই ও তারিখবিহীন নোটিস দিয়ে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উচ্ছেদের কারণ ও পুনর্বাসনের বাধ্যবাধকতা
অন্য দিকে, রেল কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল যে সাধারণ রেলযাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং যাত্রী অধিকার রক্ষার্থেই এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে সব পক্ষের আইনি বক্তব্য পর্যালোচনা করে বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য স্পষ্ট নির্দেশ দেন, রেলের প্ল্যাটফর্ম বা জায়গা দখলমুক্ত করার যৌক্তিকতা থাকলেও বৈধ হকারদের ক্ষেত্রে বিকল্প বসার জায়গার বন্দোবস্ত রেল কর্তৃপক্ষকেই করতে হবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে রেলের কাছে একটি বিশদ রিপোর্টও তলব করেছে উচ্চ আদালত। এই নির্দেশের ফলে রেলের একতরফা উচ্ছেদ অভিযান সাময়িকভাবে থমকে গেল এবং ভবিষ্যতে হকার উচ্ছেদের ক্ষেত্রে পুনর্বাসনের বিষয়টি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক হয়ে উঠল।