বাজেট অধিবেশনের দিনই মিলবে বিরোধী দলনেতার ভাগ্য, হাই কোর্টের রায়ের অপেক্ষায় রাজ্য রাজনীতি

বঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ ঘিরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আইনি লড়াইয়ের ভাগ্য নির্ধারণ হতে চলেছে। বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরুর দিনই কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিধানসভার স্পিকার কর্তৃক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রায়দান স্থগিত রাখলেও, অধিবেশনের প্রথম দিনই তা প্রকাশ হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
আদালতের প্রশ্ন ও স্পিকারের যুক্তি
মামলার শুনানিতে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাই কোর্ট। গত ১৯ মে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার পর কেন স্পিকার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছিলেন, সেই বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে স্পিকারের আইনজীবী আদালতে জানান, ১৯ মে প্রাপ্ত চিঠিতে বিধায়কদের বৈঠক বা ‘মিটিং রেজল্যুশন’ সংক্রান্ত কিছু আইনি জটিলতা ছিল। পরবর্তীতে ৩ জুন বিরোধী শিবিরের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৬ জন সশরীরে হাজির হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে প্রস্তাব জমা দেওয়ায় ৩ জুন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজনৈতিক প্রভাব ও আইনগত জটিলতা
তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে প্রশ্ন তোলেন, দলনেতা নির্ধারণের এক্তিয়ার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বা অন্য বিধায়কদের নয়, বরং তা দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, রাজ্যপালের ভাষণের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই রায় আসতে চলায় বিধানসভার অন্দরে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতের নির্দেশ যদি স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে যায়, তবে বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধী দলনেতার আসন নিয়ে নতুন করে আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।