মেগা আসর শুরুর আগেই চোটের ধাক্কা, মাঠের বাইরে ব্রাজিলের রডরিগো সহ একঝাঁক মহাতারকা!

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর এক সপ্তাহও বাকি নেই। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পর্দা উঠবে বিশ্ব ফুটবলের এই মহোৎসবের। বিশ্বের সেরা তারকারা যখন নিজেদের দেশকে ট্রফি জেতানোর লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই ফুটবল বিশ্বে নেমে এসেছে চরম হতাশার ছায়া। মাঠ কাঁপানো বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার চোটের কারণে এবারের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন।
চোটের থাবায় চূর্ণ ব্রাজিলের আক্রমণ ও রক্ষণভাগ
এবারের বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের শিবিরে চোট বড় আঘাত হেনেছে। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা স্ট্রাইকার রডরিগো গত মার্চ মাসে মারাত্মক চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান। চিকিৎসকদের মতে, চোট সারাতে তাঁর অন্তত আট মাস সময় লাগবে। ফলে বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসাকে ছাড়াই নামতে হবে। শুধু আক্রমণভাগ নয়, সেলেসাওদের রক্ষণভাগও বড় ধাক্কা খেয়েছে। রডরিগোর ক্লাব ও জাতীয় দলের সতীর্থ রক্ষণভাগের প্রধান সেনানি এডার মিলিতাও হ্যামস্ট্রিংয়ে মারাত্মক চোট পেয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, যার ফলে তাঁরও বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
তারকাদের অনুপস্থিতিতে শক্তি হারাচ্ছে ইউরোপ ও আফ্রিকার দলগুলো
ফরাসি শিবিরে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে ফরোয়ার্ড হুগো একিতিকের চোট। লিভারপুলের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই তারকা উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজি-র বিরুদ্ধে ম্যাচে অ্যাকিলস টেন্ডনে চোট পান। অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘদিনের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন তিনি। অন্যদিকে, স্পেনের আক্রমণভাগে গাভি ও পেড্রির সঙ্গে মাঝমাঠের চালিকাশক্তি হিসেবে ভাবা হচ্ছিল বার্সেলোনার তরুণ মিডফিল্ডার ফারমিন লোপেজকে। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগে ডান পায়ে চোট পেয়ে অস্ত্রোপচার করাতে হওয়ায় তিনি ছিটকে গেছেন। ডাচ শিবিরকেও হতাশ করেছেন তরুণ তুর্কি জাভি সিমন্স, ডান হাঁটুতে চোট পাওয়ায় নেদারল্যান্ডসের হয়ে মাঠে নামা হচ্ছে না তাঁর। এছাড়া আফ্রিকার দেশ ঘানাও তাদের অন্যতম সেরা অস্ত্রকে হারাচ্ছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে চমক দেখানো টটেনহ্যাম হটস্পারের ফরোয়ার্ড মহম্মদ কুদুস টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে চোটের কবলে পড়ে দল থেকে ছিটকে গেছেন।
প্রভাব ও শূন্যতা
বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে তারকা ফুটবলারদের ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ত সূচির কারণে এই চোটের প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই তারকাদের অনুপস্থিতি সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনাকে বড় ধরনের সংকটে ফেলবে। একই সাথে মাঠের লড়াইয়ে দলের শক্তিতে বড় শূন্যতা তৈরি করবে, যা টুর্নামেন্টের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে। প্রিয় তারকাদের এই মেগা আসরে দেখতে না পাওয়া ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও অত্যন্ত বেদনাদায়ক।