শুভেন্দুর পাশে বসার এক মাসেই পদত্যাগ, রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তীর ইস্তফা ঘিরে জোর জল্পনা

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অধ্যাপক সোনালি চক্রবর্তী। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর এই পদক্ষেপ শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন তৈরি করেছে। গত মে মাসে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে এক বিশেষ রাজনৈতিক উপস্থিতির ঠিক এক মাসের মাথায় তিনি রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন।
ইস্তফার নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক সংযোগ
গত ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন রাজ্যে রাজনৈতিক রদবদলের পর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ গ্রহণের পর তিনি সরাসরি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে যান। সেই সময় তাঁর ঠিক পাশেই দেখা গিয়েছিল রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তীকে। এই ঘটনার পর থেকেই নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। অবশেষে এক মাস পার হতেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন, যাকে সরকারি পালাবদলের পরবর্তী স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিয়োগের ইতিহাস ও সম্ভাব্য প্রভাব
সোনালি চক্রবর্তীর এই পদত্যাগের পেছনে দীর্ঘ প্রশাসনিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন শীর্ষ আমলা তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী। গত বছর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্য পদে তাঁর নাম সুপারিশ করলেও তৎকালীন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস তাতে সম্মতি দেননি। সোনালি দেবী তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত আগস্টে তিনি রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্য পদে বসেন।
শিক্ষা মহলের মতে, এই ইস্তফার ফলে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ স্তরের প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে। নতুন সরকারের নীতি অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন করে রদবদল এবং নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।