এবার কি বহরমপুরেই কি শেষ ভরসা! ক্ষমতা হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন মমতা

রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতার হাতবদল এবং দলের অন্দরে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের নজিরবিহীন বিদ্রোহের মুখে পড়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চরম অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে যে, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পোক্ত করতে এবং সংসদে প্রবেশের লক্ষ্যে তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রটিকে বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ও বিজেপির কটাক্ষ
বহরমপুরে ৫০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোটার থাকায় এই কেন্দ্রটিকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গেরুয়া শিবিরের মতে, নিজের খাসতালুক কালীঘাটে জনভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় তিনি আবারও চিরাচরিত সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের ওপর নির্ভর করতে চাইছেন। বিজেপির দাবি, দলে বড়সড় ভাঙন এবং রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর অস্বস্তি থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতেই দিল্লির রাজনীতিতে পা রাখার এই মরিয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর প্রভাব হিসেবে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও দলের অস্তিত্ব নিয়ে আরও বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সৌরভ-ইউসুফ বিতর্ক ও জল্পনার অবসান
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহরমপুর থেকে দাঁড়ানোর জল্পনার মাঝেই একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করে, বর্তমান তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগে রাজি করানোর জন্য প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এই খবর সামনে আসতেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্ট দুই তারকাই তা পুরোপুরি খারিজ করে দেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় একটি প্রেস বিবৃতি দিয়ে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দেন এবং জানান তিনি কোনো রাজনৈতিক মধ্যস্থতায় ছিলেন না। অন্যদিকে, ইউসুফ পাঠানও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে স্পষ্ট জানান যে, দল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে তাঁকে এমন কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি এবং তিনি বহরমপুরের মানুষের পাশেই রয়েছেন। এই জোড়া অস্বীকারের পর তৃণমূলের অস্বস্তি কিছুটা কমলেও বিরোধী শিবিরের আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।