পদোন্নতির ইন্টারভিউয়ের আগেই ফুরিয়ে গেল জীবন, দিল্লির ফ্ল্যাটে অধ্যাপিকার রহস্যমৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের নৃশংস হত্যাকাণ্ড রাজধানী জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের ‘সত্যম অ্যাপার্টমেন্ট’-এর নিজ ফ্ল্যাট থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ ৪-৫ বছর ধরে ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন ৪৩ বছর বয়সী এই অধ্যাপিকা। গত ৪ জুন তাঁর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদোন্নতির ইন্টারভিউ থাকার কথা থাকলেও সেখানে তিনি উপস্থিত হননি। বুধবার বিকেল ৪টার পর থেকেই সহকর্মী বা পরিবারের কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। অবশেষে তাঁর দিদি দেবারতি পাল ফ্ল্যাটে গিয়ে বাইরে থেকে তালা বন্ধ দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে এই মর্মান্তিক ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসে।
তদন্তে জটিল ধাঁধা ও পরিচিতের যোগসূত্রের ইঙ্গিত
হত্যাকাণ্ডের ধরন তদন্তকারীদের এক গভীর ধোঁয়াশার মুখে দাঁড় করিয়েছে। ময়নাতদন্ত ও প্রাথমিক তদন্তে মৃতদেহের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন, দুই কব্জিতে কাটার দাগ এবং মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের ক্ষত পাওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে বড় রহস্য তৈরি হয়েছে ফ্ল্যাটের নিরাপত্তা নিয়ে। ঘরের বাইরে থেকে তালা বন্ধ থাকলেও ঘরের দরজা বা জানলা ভাঙার কিংবা বলপূর্বক ভেতরে প্রবেশের কোনও প্রমাণ মেলেনি। পূর্ব দিল্লির ডিসিপি রাজীব কুমার জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত করে আততায়ী সম্ভবত অধ্যাপিকার পূর্বপরিচিত কেউ ছিলেন, যার জন্য দেবস্মিতা নিজেই দরজা খুলে দিয়েছিলেন এবং কাজ শেষে খুনি বাইরে থেকে তালা দিয়ে চম্পট দেয়।
ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন ও আইনি পদক্ষেপ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে শিবাজি কলেজে স্থায়ীভাবে যোগ দেওয়ার আগে দেবস্মিতা অন্য একটি কলেজে অস্থায়ী অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও বেশ কিছু দিন ধরে মসৃণ ছিল না; বিগত চার বছর ধরে বেঙ্গালুরু নিবাসী স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছিল। এই পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনও সংযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যে নিউ অশোক নগর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১০৩(১) ধারায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অপরাধীকে শনাক্ত করতে পুলিশের অপরাধদমন শাখা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ডিজিটাল ও বৈষয়িক নমুনা পরীক্ষা করছেন।