যুদ্ধবিরতির মাঝেই গাজায় নতুন করে ইজরায়েলি হামলা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি প্রক্রিয়ার আবহ তৈরি হওয়ার মাঝেই ফের রক্তাক্ত হলো প্যালেস্টাইনের গাজা ভূখণ্ড। যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে গাজায় নতুন করে জোরালো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইজরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। গাজার স্বাস্থ্য দপ্তর এবং স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রের খবর, এই আকস্মিক ও বর্বর হামলায় দুই শিশু এবং দুই মহিলাসহ অন্তত ১০ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। নতুন করে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনে আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
চারটি পৃথক হামলায় বিধ্বস্ত গাজা ও খান ইউনিস
প্যালেস্টাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, গাজা শহরের অন্তত চারটি পৃথক এলাকায় ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে তীব্র বোমাবর্ষণ করা হয়। হামলার পরপরই গাজা শহরের শিফা হাসপাতালে দুই শিশু এবং দুই মহিলাসহ ৯ জনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বোমাবর্ষণের তীব্রতায় আশপাশের বহু বাড়িঘর ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারেন। গাজা শহরের পাশাপাশি দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকাকেও নিশানা করেছে ইজরায়েলি সেনা। খান ইউনিসের সেই হামলায় আরও এক জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১৬ জন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির উপস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়া সত্ত্বেও ইজরায়েলের এই আচমকা হামলার নেপথ্যে রয়েছে গাজা ভূখণ্ডে হামাসের শেষ ঘাঁটিগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করার সামরিক জেদ। ইজরায়েলি প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধবিরতির আড়ালে পুনর্সংগঠিত হওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর গতিবিধি রুখতেই এই অভিযান।
তবে এই নতুন হামলার সম্ভাব্য প্রভাব হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী। প্রথমত, এই ঘটনার ফলে বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার মুখে পড়ল, যা গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে স্থবির করে দেবে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক মহলের চাপ উপেক্ষা করে ইজরায়েলের এই আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে আরও দীর্ঘায়িত করবে এবং প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির পক্ষ থেকে ইজরায়েলের অভ্যন্তরে পাল্টা রকেট হামলার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে গোটা অঞ্চল ফের এক দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কবলে পড়বে।