বিধানসভার পর লোকসভাতেও ভাঙনের জল্পনা! মমতার ব্যর্থতাকে দুষে বিস্ফোরক সাংসদ কাকলি

বিধানসভার পর লোকসভাতেও ভাঙনের জল্পনা! মমতার ব্যর্থতাকে দুষে বিস্ফোরক সাংসদ কাকলি

রাজ্য রাজনীতিতে ফের নতুন সমীকরণ। বিধানসভায় পরিষদীয় দলের পর এ বার লোকসভাতেও তৃণমূলের সংসদীয় দল ভাঙতে চলেছে বলে জল্পনা তীব্র হচ্ছে। এই আবহের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে সরব হলেন বারাসাতের প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

মুখ্যমন্ত্রীর তোপ ও সাংসদের জবাব

গত ২ জুন ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে নাম না-করে কাকলির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন মমতা। তাঁর ইঙ্গিত ছিল, বিধানসভা নির্বাচনে ছেলেকে টিকিট না দেওয়ার ক্ষোভ থেকেই সাংসদ বেসুরো মন্তব্য করছেন। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে তার কড়া জবাব দিয়েছেন কাকলি। তিনি স্পষ্ট জানান, চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা এক জন নেত্রী নিজের স্বার্থের কথা ভাবেন না। তাঁর দাবি, ভোটে দলের এই ভরাডুবি আসলে পূর্বতন সরকারের নীতি ও ব্যর্থতার বিরুদ্ধেই সাধারণ মানুষের রায়। একইসঙ্গে স্কটিশ কবি চার্লস ম্যাকায়ের কবিতা উদ্ধৃত করে তিনি বুঝিয়েছেন, কর্তব্যের পথে চললে শত্রু তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

ক্রমবর্ধমান দূরত্ব ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

এই রাজনৈতিক দূরত্বের মূল কারণ লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে কাকলিকে সরিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া। এই সিদ্ধান্তের পরেই সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলির উপস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়ার ঘটনা বিজেপির সঙ্গে তাঁর নৈকট্যের জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দলের অন্দরেও। বিধানসভায় ইতিমধ্যেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বদলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করতে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের ৫৯ জন বিধায়ক। লোকসভাতেও বর্তমান দলনেতা অভিষেককে নিয়ে দলের একাংশের অসন্তোষ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো দীর্ঘদিনের সঙ্গীর প্রকাশ্য বিদ্রোহ তৃণমূলের সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় ভাঙনের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *