‘কী যে আনন্দ পাচ্ছি বলে বোঝানোর নয়’! তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি নিয়ে বিস্ফোরক দেবাংশু

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক তৃণমূল নেতার দুর্নীতি ও তোলাবাজির কীর্তি সামনে আসছে এবং তাঁরা গ্রেফতার হচ্ছেন। আর নিজের দলের এই নেতাদের গ্রেফতারিতেই এবার রীতিমতো ‘আনন্দ’ পাচ্ছেন তৃণমূলের যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিস্ফোরক পোস্ট করে নিজেই সেই কথা খোলসা করেছেন তিনি।
কেন আনন্দ পাচ্ছেন দেবাংশু?
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে চুঁচুড়া কেন্দ্র থেকে লড়াই করে হেরে গিয়েছেন দেবাংশু। তবে দলের ভরাডুবির পর অন্যান্যদের মতো তিনি ‘বিক্ষুব্ধ’ হননি। বরং দলের অন্দরে থাকা দুর্নীতিগ্রস্তদের পতন দেখে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে তিনি লেখেন, “কিছু চোর-ডাকাত-তোলাবাজের গ্রেফতার দেখে যে কী আনন্দ পাচ্ছি, বলে বোঝানোর নয়! একেকটা জেলাকে বাপের সম্পত্তি ভেবে বসেছিল, আঙুলের ডগায় পুলিশকে নাচাতো! মানুষের বুকের উপর পা দিয়ে সাম্রাজ্য গঠন করেছিল। ছোট ছোট মুখ্যমন্ত্রী ভেবে নিয়েছিল নিজেদের… জেলায় জেলায় দলের ভরাডুবির হোতা ও হেতু এঁরাই!”
দলের জন্য ‘ব্লেসিং ইন ডিসগাইজ’
দেবাংশুর মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে কিছু গ্রেফতারি হলেও ফাঁকতালে দলের ভেতরে থাকা প্রকৃত চোর, ছ্যাঁচড় ও হুমকিবাজরাও ধরা পড়ছে, যা আদতে দলের জন্য খুব ভালো লক্ষণ। একে তিনি ‘ব্লেসিং ইন ডিসগাইজ’ বা শাপে বর বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, যাঁরা সৎভাবে রাজনীতি করেছেন, গায়ে কালির দাগ লাগতে দেননি, তাঁরা কেন হারের পর এইসব বদমাইশদের দায়ভার নেবেন? দেবাংশু স্পষ্ট দাবি জানিয়েছেন, দল ক্ষমতায় থাকলে লোভী মানুষের ভিড় বাড়ে। তাই এখন অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে দল থেকে এই দুর্নীতিগ্রস্তদের চিরতরে ছেঁটে ফেলা উচিত।
দেবাংশুর এই বিস্ফোরক পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ক্ষমতায় থাকাকালীন সত্যিই শাসক দল ‘চোর-ডাকাতে’ ভরে গিয়েছিল? দলের অন্দরের এই দুর্নীতিবাজদের দ্রুত ঝেড়ে ফেলার পক্ষেই এখন জোরালো সওয়াল করলেন তৃণমূলের এই যুব নেতা।