অস্তিত্ব রক্ষায় তৃণমূলে ব্যাপক রদবদল! অভিষেকের ডানা ছেঁটে মমতার ভরসা প্রবীণরাই

অস্তিত্ব রক্ষায় তৃণমূলে ব্যাপক রদবদল! অভিষেকের ডানা ছেঁটে মমতার ভরসা প্রবীণরাই

টানা ২৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার বড়সড় ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এই চরম ক্রান্তিলগ্নে নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করতে ব্যাপক সাংগঠনিক রদবদল করলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের বাসভবনে আয়োজিত জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের পর যে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে স্পষ্টতই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ তরুণ ও নব্য নেতাদের সরিয়ে প্রবীণ এবং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত অনুগতদের ওপরই পূর্ণ আস্থা রেখেছেন দলনেত্রী।

অভিষেকের ক্ষমতা খর্ব ও নেতৃত্বে পুরনোদের প্রত্যাবর্তন

নতুন কমিটিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদে বহাল রাখা হলেও, তাঁকে ‘সহায়তা’ করার জন্য রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে জাতীয় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি অভিষেকের একচ্ছত্র ক্ষমতা খর্ব করারই একটি প্রচ্ছন্ন কৌশল। বয়সের কারণে সুব্রত বক্সী অব্যাহতি চাওয়ায় দলের নতুন রাজ্য সভাপতি হয়েছেন প্রবীণ মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। অন্যদিকে, দলের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিমের কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা এবং নতুন সাংগঠনিক কাঠামোতে তাঁর আকস্মিক অনুপস্থিতি যথেষ্ট বিস্ময় তৈরি করেছে। রাজ্য কমিটিতে সাজদা আহমেদ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো নেতাদের সহ-সভাপতি এবং বাবর আলী, অরূপ বিশ্বাসদের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। যুব কংগ্রেস ও মহিলা কংগ্রেসের দায়িত্ব পেয়েছেন যথাক্রমে সায়নী ঘোষ ও মালা রায়।

বেনজির বিদ্রোহের কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

সাম্প্রতিককালের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরেই দলের অন্দরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ক বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করে বিধানসভায় দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন এবং স্পিকারের স্বীকৃতিও আদায় করে নেন। দলের জন্মলগ্ন থেকে এমন অভূতপূর্ব ও ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণেই তৃণমূল নেত্রী সমস্ত পূর্বতন কমিটি ভেঙে দিয়ে দলের খোলনলচে বদলাতে বাধ্য হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রদবদল নিছক কোনো রুটিন পরিবর্তন নয়, বরং দলের ভাঙন রুখতে এবং রাশ পুরোপুরি নিজের হাতে রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মরিয়া কৌশল। তবে নতুন প্রজন্মের নেতাদের কোণঠাসা করে পুরনোদের ওপর এই একচেটিয়া নির্ভরশীলতা আগামী দিনে দলের অন্দরে নবীন বনাম প্রবীণ দ্বন্দ্বকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *