অনুপ্রবেশ এবং পুশব্যাক বিতর্কে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চরমে উত্তেজনা! বিএসএফের ডাকা পতাকা বৈঠক ফেরাল বিজিবি

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং পুশব্যাক ঘিরে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপের জেরে দুই দেশের নো-ম্যানস ল্যান্ডে বা জিরো লাইনে আটকে পড়েছেন নারী ও শিশু-সহ বেশ কিছু মানুষ। পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী নাগরিকদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে প্রশাসনের সাম্প্রতিক কঠোর পদক্ষেপের আবহেই এই সীমান্ত সমস্যার সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে জিরো লাইনে দুর্ভোগ
শুক্রবার বিজিবির তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বিএসএফ গত ২৪ ঘণ্টায় কোচবিহার, মালদহ এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৭০ জনেরও বেশি মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছে। লালমনিরহাট, নওগাঁ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে সতর্কতা জারি করে ওই মানুষদের আটকে দেওয়ার দাবি করেছে তারা। অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে বিএসএফ পাল্টা দাবি করেছে, কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ সংলগ্ন জলশালা সীমান্তে বিজিবি নারী ও শিশু-সহ ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়। এই সংবেদনশীল পরিস্থিতির কারণে অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ভারত।
পতাকা বৈঠকে অস্বীকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
উভয় বাহিনীই আটকে পড়া ওই মানুষদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করায়, চরম গরম ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকে রয়েছেন বহু মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএসএফের তরফে একটি ফ্ল্যাগ মিটিং বা পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হলেও বিজিবি তাতে যোগ দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছে। এর ফলে সীমান্তে দুই বাহিনীর মধ্যে দূরত্ব ও উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং টহলদারি জোরদার করা হয়েছে। আগামী ৮ থেকে ১১ জুন নয়াদিল্লিতে দুই দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের মধ্যে ৫৭তম সীমান্ত সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই অমানবিক অচলাবস্থা এবং অনুপ্রবেশের বিতর্কিত ইস্যুটি ওই বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে, যা আগামী দিনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সীমান্ত নিরাপত্তা কৌশলের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।