বন্ধু থেকে চরম শত্রু! খান স্যার ও রোশন আনন্দের বিবাদের নেপথ্যের আসল রহস্য কী?

পাটনার কোচিং জগতে এখন একটাই চর্চা—খান স্যার এবং রোশন আনন্দের তীব্র দ্বন্দ্ব! একসময়ের সুসম্পর্ক কীভাবে এমন তিক্ততায় পরিণত হলো, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও পড়ুয়াদের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি পুরোনো ছবি এই কৌতূহল আরও বাড়িয়েছে, যেখানে অসুস্থ খান স্যারকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন রোশন আনন্দ। অথচ আজ সেই দুজনের নামই জড়াচ্ছে বড়সড় বিতর্কে।
একসঙ্গে কোচিং না চালালেও ছিল সুসম্পর্ক
অনেকেই মনে করেন তাঁরা হয়তো একসময় একসঙ্গে কোচিং চালাতেন। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রমাণ নেই। খান স্যার যুক্ত তাঁর ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’-এর সঙ্গে এবং রোশন আনন্দ চালান ‘জ্ঞান বিন্দু জিএস একাডেমি’। জনসমক্ষে তাঁরা নিজেদের বন্ধুত্বের কথা কখনও খোলসা না করলেও, পুরোনো ছবি ও সাক্ষাৎ প্রমাণ করে যে একসময় তাঁদের মধ্যে বেশ ভালো ও সৌজন্যমূলক সম্পর্ক ছিল।
কীভাবে বাড়ল দূরত্ব?
এই বিবাদের নেপথ্যে কোনো নির্দিষ্ট ‘ভুল’ নয়, বরং প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে কোচিং জগতের তীব্র প্রতিযোগিতা। গত কয়েক বছরে খুব কম ফিতে পড়ানোর সুবাদে খান স্যারের জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়েছে। বিহারের গণ্ডি ছাড়িয়ে সারাদেশে তাঁর খ্যাতি অন্যান্য কোচিং সেন্টারগুলোর জন্য বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। আর এই ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতাই ধীরে ধীরে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্বের প্রাচীর গড়ে তোলে।
হামলা ও এফআইআর বিতর্কে উত্তাল পাটনা
সম্প্রতি পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় যখন পাটনায় খান স্যারের কোচিং সেন্টারের বাইরে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের তদন্তে রোশন আনন্দের নামও জড়িয়ে যায়। শুরু হয় একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ ও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির পালা। এর মাঝেই খান স্যারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মিথ্যা বলার অভিযোগে তিনি এখন আইনি জটিলতায় ফেঁসেছেন এবং তাঁর গ্রেপ্তারি নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। একসময়ের পরিচিত দুই মুখের এই চরম সংঘাত এখন বিহারের কোচিং দুনিয়ার সবচেয়ে বড় খবরে পরিণত হয়েছে।