অসহযোগিতার অভিযোগে মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ, কাঠগড়ায় পুর কমিশনার

কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন তিনি। কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ফিরহাদ। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর এই ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পদত্যাগের নেপথ্যে কারণ
ফিরহাদ হাকিম তাঁর পদত্যাগের পেছনে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে পুরসভার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাঁর ক্ষমতা কার্যত সীমিত হয়ে গিয়েছিল। তিনি নিজেকে ‘নিধিরাম সর্দার’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেন যে, পুরসভার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। কাজ করার ক্ষেত্রে ক্রমাগত অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, এমন পরিস্থিতিতে চেয়ারের মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব ছিল না বলেই তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পুরসভার ভবিষ্যৎ ও সাংবিধানিক সংকট
মেয়র পদত্যাগ করায় কলকাতা পুরসভার বর্তমান ‘মেয়র-ইন-কাউন্সিল’ বা মেয়র পরিষদের অস্তিত্ব আইনত বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা কমে যাবে এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, রাজ্য পুর দপ্তর আগামী তিন দিনের মধ্যে জানতে চেয়েছে কেন বর্তমান পুর-বোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না। প্রাক্তন মেয়র তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মতে, এই পরিস্থিতিতে আপাতত আমলাদের নিয়ন্ত্রণে পরিষেবা সচল রাখার চেষ্টা হবে এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বোর্ড গঠন করতে হবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
ফিরহাদের এই পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র তরজা শুরু হয়েছে:
- বিজেপি: সজল ঘোষ ও মীনাদেবী পুরোহিতের মতো বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, বর্ষার আগে দায় এড়াতে ফিরহাদ এই পদত্যাগের ‘নাটক’ করছেন। তাঁর আমলে বেআইনি নির্মাণ ও পুরসভার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছে বিরোধী পক্ষ।
- তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা: পুরসভার অন্দরে তৃণমূলের ভেতরেও বড়সড় ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, ফিরহাদের দেখানো পথেই আরও অনেক কাউন্সিলর পদত্যাগের পথে রয়েছেন।
ফিরহাদ হাকিম ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে মেয়র ও প্রশাসকের দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থানের ফলে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরণের রদবদল আসন্ন বলে মনে করা হচ্ছে।