হরমুজ় প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনা, ইরানের ড্রোন ধ্বংসের দাবি আমেরিকার

হরমুজ় প্রণালী লক্ষ্য করে ইরান চারটি ড্রোন ছুড়েছিল বলে দাবি করেছে আমেরিকান সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ড্রোনগুলি ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক যান চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যার ফলে সেগুলিকে ভূপাতিত করা হয়েছে।
সামরিক পদক্ষেপ ও রাডার সাইটে হামলা
ড্রোন ধ্বংস করার পাশাপাশি, নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে আমেরিকা। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, গোরুক (Goruk) এবং কেশম দ্বীপে (Qeshm Island) অবস্থিত ইরানের উপকূলীয় নজরদারি রাডার সাইটগুলিতে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। ইরানের এই ‘অযৌক্তিক আগ্রাসনের’ সমুচিত জবাব দিতে তারা সর্বদা প্রস্তুত বলে সেন্টকমের তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় হুঙ্কার দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার পারদ
গত কয়েকদিন ধরেই পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। কুয়েত ও বেইরুটে আমেরিকান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগের পাশাপাশি, ওমান সাগরে মার্কিন সামরিক জাহাজে হামলার দাবি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে চাপানউতোর চলছে। একদিকে যেমন আমেরিকা ইরানকে নৌশক্তি ও অবরোধের মাধ্যমে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইরান হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
কূটনৈতিক পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের মন্তব্য
পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হলেও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন। শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্তমানে ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে। তবে তেহরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে যে, আমেরিকার এই হামলার জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। সব মিলিয়ে দুই দেশের সামরিক পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক টানাপড়েনের জেরে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে।