কর্তব্যে অবহেলার জন্য বেতন-পেনশন কাটা যাবে সরকারি আধিকারিকদের, দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে কড়া বার্তা

দিল্লির মালব্য নগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসল দিল্লি সরকার। এই ঘটনায় কেবল হোটেলের মালিকরাই নন, বরং কর্তব্যে অবহেলাকারী সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও অত্যন্ত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা করেছে সরকার।
কর্তব্যে অবহেলায় ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নেতৃত্বাধীন উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, সরকারি আধিকারিকরা যদি নিয়মভঙ্গ বা অবৈধ নির্মাণে মদত দেন, তবে তাঁদের কেবল প্রশাসনিক শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে না, বরং তাঁদের ওপর ব্যক্তিগত আর্থিক দায়বদ্ধতাও আরোপ করা হবে। দায়ীদের বেতন, পেনশন এবং অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা থেকে অগ্নিকাণ্ডের ফলে হওয়া ক্ষতির অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এছাড়া, অবহেলা বা যোগসাজশের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ মামলা দায়ের ও কারাদণ্ডের মতো কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ জানিয়েছেন যে, এই ধরণের মর্মান্তিক ঘটনার পর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জেলাশাসকদের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশে দিল্লি জুড়ে হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলিতে নিরাপত্তা ও অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে কোনো পূর্বানুমোদন ছাড়াই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই শহরের বেশ কিছু অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
জবাবদিহির অভাব নিয়ে উদ্বেগ
বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ হয়ে থাকায় দুর্ঘটনার পর প্রকৃত দোষী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এবার থেকে সেই জট কাটিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর সরকার। মালব্য নগরের অগ্নিকাণ্ডের পর দিল্লিতে অবস্থিত সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষাকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।