১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন ও ৫৩৮টি ওভারব্রিজ: বাংলার রেল পরিকাঠামোয় মেগা বদলের ব্লু-প্রিন্ট

রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রকের মধ্যে সমন্বয় স্থাপনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের যৌথ বৈঠকের পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
রেল উন্নয়নে নবান্নের বিশেষ বৈঠক: মূল ঘোষণা ও উদ্যোগসমূহ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেছেন যে, আগের সরকারের আমলের কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের নীতি পরিহার করে এখন উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।
প্রধান সিদ্ধান্ত ও প্রকল্পের রূপরেখা:
- ১ লক্ষ কোটির বিনিয়োগ: মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মোদী সরকারের বর্তমান বরাদ্দ ইউপিএ আমলের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। পশ্চিমবঙ্গকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১৪,২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া আটকে থাকা প্রকল্পগুলিতে রাজ্য সরকার এনওসি (NOC) প্রদান করলে রাজ্যে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
- রেল মানচিত্রে নতুন এলাকা: নন্দীগ্রাম, লালগড়, সুন্দরবন, হিলি, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদের যে এলাকাগুলি এতদিন রেল নেটওয়ার্কের বাইরে ছিল, সেগুলিকে দ্রুত রেল মানচিত্রে যুক্ত করা হবে। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পগুলির জন্য দ্রুত জমি অধিগ্রহণ ও এনওসি প্রদানের কাজ শুরু করেছে।
- অমৃত ভারত স্টেশন: প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের ১০২টি স্টেশনকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা হবে।
- নিরাপত্তা ও যানজট মুক্তি: রাজ্যজুড়ে ৫৩৮টি রেল রোড ওভার ব্রিজ (ROB) এবং সাবওয়ে/আন্ডারপাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪০টি সাবওয়ের জন্য প্রয়োজনীয় এনওসি প্রদান করা হয়েছে।
- সহযোগিতামূলক পরিবেশ: মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রেল বোর্ড প্রকল্পের পুরো ব্যয়ভার বহন করবে এবং রাজ্য সরকার জমি জট কাটিয়ে কাজের গতি ত্বরান্বিত করবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
এই বৈঠকের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতার চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেন। সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই রেলের সাথে এই মেগা প্রজেক্ট ও দ্রুত জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত বাংলার পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।