সোনা-রুপার বাজারে বিরাট ধস, গয়নার সোনার দর জানলে চমকে যাবেন

সোনা-রুপার বাজারে বিরাট ধস, গয়নার সোনার দর জানলে চমকে যাবেন

বিশ্ব বাজারে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ডলারের টানা উত্থানের জেরে এক ধাক্কায় বড়সড় পতন ঘটল সোনা ও রুপার দামে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উভয় বুলিয়ন বাজারেই আজ, ১০ই জুন, দুই মূল্যবান ধাতুর মূল্যে এই উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ২৪-ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে এক লাফেই প্রায় ৪,৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

গহনা তৈরির জন্য জনপ্রিয় ২২-ক্যারেট সোনাও বর্তমানে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩৬,৪৫০ টাকা থেকে ১,৩৭,১৬০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। বিশ্ববাজারে বছরের শুরুতে যে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৬০২ ডলারে পৌঁছেছিল, তা ২৫ শতাংশের বেশি পড়ে গিয়ে এখন প্রায় ৪,১৭৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। আজ দেশের মেট্রো শহরগুলির মধ্যে কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রামের দাম দাঁড়িয়েছে ১৪,৮৮৬ টাকা এবং ২২ ক্যারেটের দাম ১৩,৬৪৫ টাকা। একই দাম রয়েছে মুম্বাই, পুনে ও বেঙ্গালুরুতেও। অন্যদিকে রাজধানী দিল্লিতে ২৪ ও ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রামের দর যথাক্রমে ১৪,৯০১ টাকা ও ১৩,৬৬০ টাকা। চেন্নাইতে আজ সোনার দাম তুলনামূলক কিছুটা বেশি সেখানে ২৪ ক্যারেট প্রতি গ্রাম ১৫,০৫৫ টাকা এবং ২২ ক্যারেট ১৩,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

-আরও বিপাকে অভিষেক! এবার খাঁড়া ঝুলল ডায়মন্ড হারবারেই! বিজেপি নেতার এফআইআর-এ শোরগোল!

সোনার পাশাপাশি মধ্যবিত্তের জন্য বড় স্বস্তি এনেছে রুপার বাজারও। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (এমসিএক্স) রুপার ফিউচার দর প্রতি কেজিতে প্রায় ৮,১০০ থেকে ৮,২০০ টাকা (৩.৩%) কমে ২,৩৮,২২৫ টাকায় নেমে এসেছে। কলকাতা, দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো প্রধান শহরগুলিতে বর্তমানে ৯৯৯ ফাইন রুপার প্রতি কেজির দাম নেমে এসেছে ২,৩৫,৫২০ থেকে ২,৩৬,১১০ টাকার ঘরে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটেও রুপার দাম ১.৪% কমে প্রতি আউন্সে ৬৪.৪৮ ডলারে ঠেকেছে, যা গত মার্চের পর সর্বনিম্ন।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকস্মিক দরপতনের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক বৈশ্বিক কারণ। মূলত পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া সামরিক উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীদের একাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময়ের জন্য সুদের হার উচ্চ রাখতে পারে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সোনা ও রুপার চাহিদার ওপর। এর পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা ডলারকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নেওয়ায় ডলার সূচক ৯৯.৯৫-এর উপরে উঠে গেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে সোনা-রুপা কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। উপরন্তু, গত কয়েকদিনে এআই-ভিত্তিক (AI) ব্যবসায়ীদের ব্যাপক মুনাফা তুলে নেওয়া এবং বিক্রির হিড়িক রুপার দরপতনকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *