শান্তিনিকেতনে সপ্তাহে ৬ দিন হেরিটেজ ওয়াক, মিলবে অনলাইন টিকিটও

ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা পাওয়ার পর এবার পর্যটকদের জন্য শান্তিনিকেতন আশ্রম ভ্রমণের সুযোগ আরও সহজ ও বিস্তৃত করছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। আগামী ৮ জুন থেকে সপ্তাহে তিন দিনের পরিবর্তে মোট ৬ দিন পর্যটকরা ‘হেরিটেজ ওয়াক’-এর মাধ্যমে কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যবাহী আশ্রম প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে পর্যটকদের সুবিধার্থে দ্রুত অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
কর্তৃপক্ষের এই নতুন সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো শান্তিনিকেতনকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বৃহস্পতিবার বাদে সপ্তাহের বাকি ৬ দিনই নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে এই হেরিটেজ ওয়াক পরিচালিত হবে। সোম, মঙ্গল, শুক্র ও শনিবার বেলা সাড়ে ৩টে এবং বিকেল সাড়ে ৪টেয় দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন। বুধবার ও রবিবারের ক্ষেত্রে সকাল ও বিকালের একাধিক সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা থেকে টিকিট সংগ্রহের পাশাপাশি এখন থেকে অনলাইনেই দ্রুত টিকিট মিলবে, যা পর্যটকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি কমাবে।
অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব
বিশ্বভারতীর এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিদর্শনের দিন ও সময় বৃদ্ধির ফলে শান্তিনিকেতনে পর্যটকদের সমাগম এবং অবস্থানের মেয়াদ বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে স্থানীয় হোটেল, হস্তশিল্প এবং পরিবহন ব্যবসার অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করবে।
একই সঙ্গে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য ৩০০ টাকা, শিক্ষার্থীদের দলগত ও একক ভ্রমণের জন্য যথাক্রমে ৫০ ও ১৫০ টাকা এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য ১০০০ টাকা টিকিট মূল্য ধার্য করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব আয় বাড়বে। এই বাড়তি আয় আশ্রমের ঐতিহাসিক ভবন ও ভাস্কর্যগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে সহায়ক হবে। তবে অতিরিক্ত দর্শনার্থীর চাপে শান্তিনিকেতনের শান্ত পরিবেশ ও নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য কঠোর সুরক্ষামূলক পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন ও কর্মকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।