তামিলনাড়ুতে বিজেপিতে মহাভাঙন, আন্নামলাই ও নাগার্জুনের পর দল ছাড়লেন সুমতি!

দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতে ব্যাপক সাংগঠনিক সংকটের মুখে ভারতীয় জনতা পার্টি। শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতার ইস্তফায় রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামলাইয়ের দল ছাড়ার খবরের দিনেই পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্য সম্পাদক সুমতি ভেঙ্কটেশ এবং সহ-সভাপতি কারু নাগার্জুন।
নেতৃত্বের সংকট ও ইস্তফার হিড়িক
সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে নিজের পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করেছেন সুমতি ভেঙ্কটেশ। তিনি জানান, দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব এবং দলের জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখলেও দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার এই ঘোষণায় রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ কারু নাগার্জুনও দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে এনেছেন এবং তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র দ্রুত নয়াদিল্লিতে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন।
আন্নামলাইয়ের বিদায় ও সম্ভাব্য প্রভাব
তামিলনাড়ুতে বিজেপির উত্থানের অন্যতম কান্ডারি হিসেবে বিবেচিত কে আন্নামলাইয়ের বিদায় দলের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি তাঁকে রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে নাইনার নাগেন্দ্রনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এআইডিএমকে-র সঙ্গে জোটের বিরোধিতা এবং সিবিএসই-র শিক্ষানীতিতে ত্রিভাষা সূত্রের প্রবল আপত্তির কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে খবর। উপরন্তু, তাঁকে নির্বাচনে টিকিটও দেওয়া হয়নি। আন্নামলাই, সুমতি এবং নাগার্জুনের মতো হেভিওয়েট নেতাদের এই ধারাবাহিক দলত্যাগের মূলে রয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নীতিগত মতানৈক্য। এর ফলে তামিলনাড়ুতে বিজেপির রাজনৈতিক বিস্তারের পরিকল্পনা বড়সড় ধাক্কা খেল, যা আগামী দিনে রাজ্যে দলের সাংগঠনিক অবস্থানকে চরম অস্বস্তিতে ফেলবে।