‘শেখানো তোতাপাখি’ ছিলাম আমরা, আর জি কর কাণ্ডে বিস্ফোরক অভয়ার বাবা!

‘শেখানো তোতাপাখি’ ছিলাম আমরা, আর জি কর কাণ্ডে বিস্ফোরক অভয়ার বাবা!

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল এবং আর জি কর তদন্তে নতুন গতি আসার মাঝেই এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনলেন নির্যাতিতার বাবা। শিয়ালদহ আদালতে তিনি দাবি করেছেন, সিবিআইয়ের আইনজীবীরা তাঁকে ‘শেখানো তোতাপাখি’ করে রেখেছিলেন। আদালতে কী বলতে হবে, তা আগে থেকেই শিখিয়ে দেওয়া হত। সদ্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ‘আর জি কর ফাইলস’ পুনরায় খোলার পর নির্যাতিতার পরিবারের এই বিস্ফোরক দাবি গোটা তদন্তপ্রক্রিয়াকে নতুন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ভয় দেখিয়ে বয়ান নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

নির্যাতিতার বাবার অভিযোগের তির মূলত সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজা এবং দুই আইনজীবী পার্থ দত্ত ও অনুরাগী মোদির দিকে। তাঁর দাবি, বাড়িতে গিয়ে সীমা পাহুজা ভয় দেখিয়েছিলেন, তাঁদের শেখানো কথার বাইরে কিছু বললে মূল অভিযুক্ত সঞ্জয়কে আটকে রাখা যাবে না। সেই আতঙ্কেই এতদিন সিবিআইয়ের ঠিক করে দেওয়া বয়ান আদালতে বলতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, বিরোধী পক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে সিবিআই আইনজীবীর যোগসাজশের মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। শুক্রবার আদালতে সিবিআইয়ের তরফে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হলেও, প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে কোনও লিখিত অভিযোগ নেই বলে জানায় সিবিআই। আর এতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছে নির্যাতিতার পরিবার।

রাজনৈতিক পালাবদল ও সম্ভাব্য প্রভাব

জলহাটির বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তথা নির্যাতিতার মায়ের কথায় উঠে এসেছে ঘটনার দিনের চরম অব্যবস্থা ও অসহযোগিতার চিত্র। মেয়েকে দীর্ঘক্ষণ দেখতে না দেওয়া এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ইতিমধ্যেই তিন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করে নতুনভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে খোদ অভিযোগকারীর পরিবারের এই অনাস্থা এবং রাজ্য সরকারের কঠোর পদক্ষেপ, আগামী দিনে আর জি কর কাণ্ডের আইনি ও প্রশাসনিক পরিণতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে মূল অভিযুক্তদের পাশাপাশি ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদেরও নতুন করে আইনি গেরোয় পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *