লিটারে ২০ টাকা সস্তা, ভারতের জ্বালানি বাজারে যুগান্তকারী এন্ট্রি নিল ই৮৫ পেট্রোল!

ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রে এক বড়সড় বিপ্লব ঘটিয়ে দেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল ই৮৫ (E85) পেট্রোল। দিল্লির পুসা রোডে ইন্ডিয়ান অয়েলের পাম্পে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী দেশের প্রথম ই৮৫ পেট্রোল পাম্পের উদ্বোধন করেছেন। প্রচলিত ই২০ পেট্রোলের তুলনায় এই নতুন জ্বালানি লিটার প্রতি প্রায় ২০ টাকা সস্তা, যা গ্রাহকদের স্বস্তি দেবে। দিল্লিতে বর্তমানে এই বিশেষ জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে লিটার প্রতি ৮২.১২ টাকা। গ্রাহকদের বিভ্রান্তি এড়াতে এই পাম্পগুলিতে আলাদা ব্র্যান্ডিং ও স্পষ্ট লেবেলিং করা থাকবে।
ই৮৫ পেট্রোল কী এবং কেন এই উদ্যোগ
সাধারণ ই২০ পেট্রোলে যেখানে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত থাকে, সেখানে ই৮৫ পেট্রোল হলো তার একটি আপগ্রেডেড সংস্করণ। এই জ্বালানিতে সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ ইথানল এবং মাত্র ১৫ শতাংশ পেট্রোল থাকে। ইথানল মূলত দেশের কৃষিজাত পণ্য থেকে উৎপাদিত হয় বলে এর উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম এবং এটি পরিবেশবান্ধব। এই নতুন জ্বালানি চালু করার মূল কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা হ্রাস করা। এর ফলে দেশের আমদানির ব্যয় কমবে এবং ভারতের নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
কারা পাবেন এই সুবিধা এবং ভবিষ্যতের প্রভাব
তবে এই সস্তা ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সব ধরনের সাধারণ গাড়ি বা বাইকে ব্যবহার করা যাবে না। এটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন বিশেষভাবে তৈরি ফ্লেক্স-ফুয়েল (Flex-Fuel) ইঞ্জিন। বর্তমানে হিরো মোটোকর্পের স্প্লেন্ডার প্লাস ও এইচএফ ডিলাক্সের ফ্লেক্স-ফুয়েল সংস্করণ এবং সুজুকি জিক্সার এসএফ এফএফভি-র মতো নির্দিষ্ট কিছু দুই চাকার গাড়ি এই জ্বালানিতে চলতে সক্ষম। পাশাপাশি মারুতি সুজুকিও তাদের ওয়াগনআর ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ই১০০ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রণে চলতে পারবে। বর্তমানে কেবল দিল্লিতে এই সুবিধা মিললেও সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে দ্রুত দেশজুড়ে এর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করার। প্রাথমিক পর্যায়ে দিল্লি-এনসিআর এবং মুম্বই-পুণে-নাগপুর করিডরে প্রায় ১০০টি স্টেশন তৈরি করা হবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের প্রধান শহরগুলোতে ৫,০০০টি ই৮৫ পেট্রোল পাম্প স্থাপনের বড় লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।