ইউরোপে বাতিল ৪৫০ ভারতীয় খাদ্যপণ্য, দেশে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিষাক্ত খাবার!

ইউরোপে বাতিল ৪৫০ ভারতীয় খাদ্যপণ্য, দেশে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিষাক্ত খাবার!

ক্ষতিকর ধাতু এবং মানবদেহের জন্য মারাত্মক বিষাক্ত কীটনাশকের উপস্থিতির কারণে গত দুই বছরে ভারত থেকে রপ্তানি করা প্রায় ৪৫০টি খাদ্যসামগ্রী নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটির মতে, এই খাবারগুলো ইউরোপের বাজারে প্রবেশের অযোগ্য হলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে কোনো রকম বিধিনিষেধ ছাড়াই অবাধে বিক্রি হচ্ছে। ফলে দেশের সাধারণ মানুষ অজান্তেই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন।

কীটনাশক ও ক্ষতিকর ধাতুর উপস্থিতি

ইউরোপের গবেষণাগারে পরীক্ষার পর বাতিল হওয়া এই পণ্যগুলোর মধ্যে ৩৬৫টিতে ক্ষতিকর কীটনাশক এবং ভারী ধাতুর অস্তিত্ব মিলেছে। অন্তত ৫০টি পণ্যে পাওয়া গেছে মারাত্মক রোগজীবাণু। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রায় ১৩৫টি পণ্যে ক্লোরপাইরিফস-এর মতো মারাত্মক কীটনাশক পাওয়া গেছে, যা ক্যান্সার ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে বিশ্বের ৪৪টি দেশে নিষিদ্ধ। এছাড়া অন্তত ৪০টি পণ্যে ইথিলিন অক্সাইড পাওয়া গেছে, যা রক্ত ও স্তন ক্যান্সারের জন্য দায়ী। পাশাপাশি এই খাদ্যপণ্যগুলোতে মিলেছে ক্যাডমিয়াম, সিসা এবং পারদের মতো ভারী ধাতু, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের অপূরণীয় ক্ষতি করে।

নজরদারির অভাব ও জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে

ভারতে খাদ্যসামগ্রীর গুণমান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি। বিদেশে রপ্তানি বন্ধ হলেও দেশের বাজারে এই বিষাক্ত খাবারগুলোর বিক্রি বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। জননীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি চরম গাফিলতি এবং জবাবদিহিতার অভাবকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। কোথায় খাদ্যে এই বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে, তা সঠিকভাবে তদন্ত না করেই অনেক সময় দায় কৃষকদের ওপর চাপানোর চেষ্টা চলে। অথচ, ফসলে নয় বরং প্রক্রিয়াজাতকরণের পরবর্তী ধাপেই এই বিষাক্ত উপাদানগুলো মেশানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিষাক্ত কীটনাশক নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘসূত্রিতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতার মাশুল আজ সাধারণ মানুষকে নিজেদের স্বাস্থ্য দিয়ে গুনতে হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *