রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় পরিকাঠামো সমীক্ষা, ৫ জুলাইয়ের মধ্যে রিপোর্ট চাইল নবান্ন

পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্বীকৃত, অস্বীকৃত ও বেসরকারি মাদ্রাসার বাস্তব চিত্র এবং পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। নবান্নের সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের কাছে এই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ব্লক ও পুরসভা স্তরের সমস্ত মাদ্রাসায় সমীক্ষা চালিয়ে আগামী ৫ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যে একটি সুসংহত জেলাভিত্তিক রিপোর্ট নবান্নে জমা দিতে হবে।
সমীক্ষার পরিধি ও উদ্দেশ্য
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের কোনও মাদ্রাসাই এই সমীক্ষার বাইরে থাকছে না। সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত, অনুদানবিহীন, সম্পূর্ণ বেসরকারি মালিকানাধীন, রেজিস্টার্ড বা আন-রেজিস্টার্ড—সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের তথ্য এই প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করা হবে। মূলত প্রশাসনিক কারণেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সমীক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলির বর্তমান পরিকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, অ্যাকাডেমিক কাজকর্মের ধরন এবং পড়ুয়াদের আর্থ-সামাজিক বিন্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করা হবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের পক্ষে মাদ্রাসা স্তরে ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত পরিকল্পনা ও শিশুদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অনেক বেশি সহজ হবে। পাশাপাশি, কোনও প্রতিষ্ঠানে বেআইনি কার্যকলাপ বা নিয়মের অসঙ্গতি থাকলে, তা চিহ্নিত করে উপযুক্ত সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পড়ুয়া ও কর্তৃপক্ষের জন্য অভয়বার্তা
এই ব্যাপক সমীক্ষা নিয়ে যাতে কোনও অযথা ভীতি বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছে নবান্ন। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এই সমীক্ষার ভিত্তিতে কোনও মাদ্রাসার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো কোনও দমনমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। কোনও পড়ুয়াকে উচ্ছেদ করা হবে না এবং বর্তমান শিক্ষাবর্ষে মাদ্রাসাগুলির নিয়মিত পঠনপাঠন ও অ্যাকাডেমিক কাজকর্মও বিনা বাধায় স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে।