দ্বিতীয় স্বামীর পরিবারকে বাঁচাতে নিজের সন্তানকে খুন, শিউরে ওঠা ঘটনা!

দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর নিজের দুই বছরের শিশুপুত্রকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক মা। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থানা এলাকার গোটরা পঞ্চায়েতের নাপতি পাড়ায় ঘটা এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ। শিশুটির অচৈতন্য দেহ একটি মন্দিরের বারান্দা থেকে উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকায়।
পারিবারিক টানাপোড়েন ও মর্মান্তিক পরিণতি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত রিয়া বিশ্বাস তাঁর প্রথম স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় হাসনাবাদের ভেবিয়া এলাকায় বাপেরবাড়িতে চলে এসেছিলেন। প্রথম পক্ষের দুই সন্তান থাকা সত্ত্বেও তিনি আইনত বিবাহ বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। বাড়ি তৈরির সূত্র ধরে আলাপ হওয়া এক ব্যক্তিকে ভালোবেসে তিনি নাপতি পাড়ায় নতুন সংসার পাতেন। নিজের ছোট সন্তানকে সঙ্গে রাখলেও গত কয়েকদিন ধরে নতুন স্বামীর সঙ্গে তাঁর চরম অশান্তি চলছিল। পারিবারিক এই কলহ ও টানাপোড়েনের জেরেই শিশুটিকে প্রাণ হারাতে হলো বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
স্বীকারোক্তি ঘিরে ঘনীভূত রহস্য
দুপুরে স্থানীয়রা মন্দিরের বারান্দায় শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখে তড়িঘড়ি বসিরহাট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে রিয়া নিজের সন্তানকে খুনের কথা স্বীকার করলেও তাঁর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মিলেছে। কখনো তিনি খুনের দায় সরাসরি নিজের কাঁধে নিচ্ছেন, আবার কখনো দাবি করছেন যে দোষ স্বীকার না করলে দ্বিতীয় স্বামীর পরিবার ফেঁসে যাবে। এই বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের ফলে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা পারিবারিক চাপ রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। রিয়াকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনা সমাজে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।