৩ কোটি টাকা তোলার অভিযোগ! পরিবার নিয়ে ওড়িশা পালালেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ

কলকাতা পৌরনিগমের ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে প্রায় তিন কোটি টাকা তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের হতেই তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২-২৩ সালে এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগে আনন্দপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের হয়। এই অভিযোগে সুশান্ত ঘোষ ছাড়াও তাঁর বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠের নাম রয়েছে। গ্রেফতারি এড়াতে পরিবার সমেত বাংলা-ওড়িশা সীমান্ত পেরিয়ে তিনি পালিয়েছেন বলে খবর। তবে তাঁর পলায়নে ব্যবহৃত গাড়িটি ইতিমধ্যে উদ্ধার করে চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
একের পর এক গ্রেফতারি ও সুশান্তর অন্তর্ধান
ইতিমধ্যেই তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে কলকাতা পৌরনিগমের চারজন কাউন্সিলর— সুদীপ পোল্লে, সচিন সিং, অরিজিৎ দাস ঠাকুর এবং বিশ্বজিৎ মণ্ডল পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। এই আবহে সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের এবং তাঁর এই আকস্মিক অন্তর্ধান ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে কসবায় নিজের বাড়ির সামনে এই সুশান্ত ঘোষের উপরই প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা, যে ঘটনায় সেসময় যথেষ্ট শোরগোল পড়েছিল।
রাজনৈতিক তরজা ও সম্ভাব্য প্রভাব
শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক তোলাবাজির অভিযোগ এবং পুলিশের পদক্ষেপ শুরুর আগেই গা ঢাকা দেওয়ার ঘটনা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার জেরে বিরোধীরা শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করতে শুরু করেছে। বিজেপি নেতৃত্ব শাসকদলের ‘সততার প্রতীক’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছে, দোষ না করলে জনপ্রতিনিধিদের পালানোর প্রয়োজন হয় না। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার নিখোঁজ থাকার খবরের মাঝেই বর্তমান কাউন্সিলরের এই পলায়ন শাসকদলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির উপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করল, যা সাধারণ মানুষের আস্থায় বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।