রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের অপপ্রচার ধূলিসাৎ করল ভারত, গিলগিট-বালটিস্তানে বেআইনি নির্বাচন নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি!

রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে ভারতের অবমাননা করার পাকিস্তানের চেষ্টাকে আবারও কড়া ভাষায় প্রতিহত করল নয়াদিল্লি। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ জম্মু ও কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর, তার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ। তিনি সাফ জানান, পাকিস্তান যেন বিশ্বমঞ্চে মনগড়া ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রচার চালানো থেকে অবিলম্বে বিরত থাকে।
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও অধিকারের লড়াই
সাধারণ সভায় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ দৃঢ়তার সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন যে, জম্মু ও কাশ্মীর সম্পর্কিত সমস্ত বিষয় সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ এক্তিয়ারভুক্ত। কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলটি চিরকাল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। পাকিস্তানের সমস্ত দাবিকে কাল্পনিক ও ঐতিহাসিক তথ্যের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, পাকিস্তানের এই ফাঁপা রাজনীতি কোনোভাবেই বাস্তবতাকে বদলে দিতে পারবে না। একই সঙ্গে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তান অঞ্চলে পাকিস্তানের প্রাদেশিক আইনসভা নির্বাচনের তীব্র বিরোধিতা করে ভারত একে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে ঘোষণা করেছে। ভারতের দাবি, নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে রাষ্ট্রপুঞ্জের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চকে অপব্যবহার করছে ইসলামাবাদ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের কারাকোরাম পর্বত ঘেরা গিলগিট-বালটিস্তান অঞ্চলটি বেআইনিভাবে দখল করেছিল পাকিস্তান। দীর্ঘ সময় ধরে অঞ্চলটিকে সরাসরি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে রাখার পর, ভারতের তীব্র আপত্তি অগ্রাহ্য করে ২০০৯ এবং ২০২০ সালে সেখানে নির্বাচনের নাটক তৈরি করা হয়। সাম্প্রতিক এই নির্বাচনও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ, যার মূল লক্ষ্য অঞ্চলটির ওপর পাকিস্তানের অবৈধ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
ভারতের এই অনমনীয় অবস্থান ও কড়া প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক মহলে এটি স্পষ্ট করে দিল যে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়াদিল্লি কোনো আপস করবে না। এই ঘটনার ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গিলগিট-বালটিস্তানে ক্রমাগত মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন এবং অর্থনৈতিক শোষণের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে ভারত আন্তর্জাতিক জনমতকে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিয়ে যাওয়ার কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখল।