নগদ টাকার সংকটে এটিএম, দুর্ভোগ কমাতে কী জানাল আরবিআই

দীর্ঘদিন পর আবারও এটিএম মেশিনে নগদ টাকার অভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনের যুগে নগদ টাকা ব্যবহারের প্রবণতা কমলেও, প্রয়োজনীয় মুহূর্তে এটিএম থেকে টাকা তুলতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। দেশের অর্থনীতিতে নগদ অর্থের সঞ্চালন ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪২.৫৬ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছালেও, এই সংকটের নেপথ্যে উঠে এসেছে সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা।
এটিএম অপারেটরদের সংকট ও কারণ
কনফেডারেশন অব এটিএম ইন্ডাস্ট্রি বা সিএটিএমআই জানিয়েছে, গত বছরের নভেম্বর মাস থেকেই এটিএম-এ নগদ টাকা ভরার ক্ষেত্রে ঘাটতি শুরু হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬-এ এই ঘাটতির পরিমাণ ৩৬ শতাংশে পৌঁছালেও এপ্রিলে তা বেড়ে ৪৩ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়কে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, যাতায়াত খরচ এবং সিকিউরিটি গার্ডদের বেতন মেটাতে গিয়ে অপারেটরদের মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এছাড়া ইউপিআই-এর ব্যাপক জনপ্রিয়তায় এটিএম থেকে টাকা তোলার হার কমে যাওয়ায় অপারেটরদের আর্থিক কাঠামো চাপে পড়েছে।
আরবিআইয়ের অবস্থান ও আশ্বাসের বার্তা
এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের আশ্বস্ত করেছেন রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা। তিনি জানিয়েছেন, প্রতি বছর কত নগদ টাকার প্রয়োজন হবে তা আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়। দেশের কোনো অঞ্চলে নগদ অর্থের টান পড়লে তা দ্রুত খতিয়ে দেখে সমাধান করা হবে বলে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এটিএমগুলোতে দ্রুত নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে। এই সংকট সাময়িক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, তবে এটিএম পরিচালনার ব্যয়ভার ও সেবার মানের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।