দিল্লির রাজপথে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব আন্দোলনকারীরা

দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র বিক্ষোভ এবং তাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তার কড়াকড়ির বিষয়ে সাম্প্রতিক খবরটির বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো:
দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অভিনব বিক্ষোভ, কড়া নিরাপত্তায় রাজধানী
পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে এক অভিনব ও প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া এই সংগঠনটির প্রতিবাদ ঘিরে শনিবার রাজধানী উত্তাল হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভের মূল বিষয়বস্তু:
- নেতৃত্ব: আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, যিনি সম্প্রতি আমেরিকা থেকে ফিরে এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন।
- শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বার্তা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিজিৎ আন্দোলনকারীদের হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা ও বই নিয়ে যন্তর মন্তরে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই আন্দোলন ভালোবাসা ও শান্তির পথেই এগিয়ে চলবে।
- অন্যান্য সংগঠনের সমর্থন: বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসা (AISA) ও এসএফআই (SFI)-এর কর্মীরা এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। এছাড়াও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি:
- পুলিশি ব্যবস্থা: দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিশাল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
- পাল্টা বিক্ষোভ: যন্তর মন্তরে সিজেপি-র প্রতিবাদের বিরোধিতা করে একটি গোষ্ঠী ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘দেশদ্রোহিতা’র অভিযোগ তোলে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই দিল্লি পুলিশ হস্তক্ষেপ করে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।
আন্দোলনের নেপথ্যে:
‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এই নাম ও ধারণার সূত্রপাত হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। কিছু বেকার যুবককে উপহাস করে বিচারপতির করা ‘আরশোলার সঙ্গে তুলনা’ করার মন্তব্যকেই ব্যঙ্গাত্মক হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন এই আন্দোলনের কর্মীরা। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট এই বিক্ষোভের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করতে অস্বীকার করায় শনিবারের এই কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজিত হয়েছে।
বর্তমানে যন্তর মন্তর এলাকাটি পুলিশের কড়া নজরদারিতে রয়েছে এবং পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।