মানুষের শরীর কতটা গরম সহ্য করতে পারে? কখন এটি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে? জানুন বিস্তারিত

মানুষের শরীর কতটা গরম সহ্য করতে পারে? কখন এটি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে? জানুন বিস্তারিত

তপ্ত মরসুমে শরীরের অসহ্য যন্ত্রণা! কতটুকু তাপ সইতে পারে মানুষ?

প্রতি বছরই গ্রীষ্মের তীব্রতা আগের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে অনায়াসে। এমন পরিস্থিতিতে জনমনে একটি বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ঠিক কতটা উত্তাপ মানবদেহ সহ্য করতে সক্ষম এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ঠিক কত ডিগ্রি পার হলে তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে? চিকিৎসকদের মতে, বিষয়টি কেবল বাইরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং বাতাসের আর্দ্রতার ওপরও এর প্রভাব নির্ভর করে।

অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রাই আসল বিপদ

মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকে। শরীর ঘাম ও ত্বকের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে নিজেকে শীতল রাখার চেষ্টা করে। তবে বাতাসের আর্দ্রতা যখন খুব বেশি থাকে, তখন ঘাম শুকোতে পারে না এবং শরীরের শ্বেদন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের অভিমত অনুযায়ী, বাইরের তাপমাত্রা যতই বেশি হোক না কেন, শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করা মাত্রই অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। এই পর্যায়ে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনি ও লিভারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়, যা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

সতর্কতা ও করণীয়

শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে গেলে মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড ক্লান্তি, অসংলগ্ন আচরণ, দ্রুত হৃদস্পন্দন এবং বমি বমি ভাবের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। অবস্থা গুরুতর হলে ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়তে পারেন, এমনকি কোমায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং যারা হৃদরোগ বা ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এই প্রাণঘাতী পরিস্থিতি এড়াতে শরীরকে সর্বদা আর্দ্র রাখা বা পর্যাপ্ত জলপান করা জরুরি। দুপুরের কড়া রোদে বাইরে বের হওয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে এবং হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরতে হবে। মনে রাখতে হবে, হিট স্ট্রোক কেবল সাধারণ শারীরিক অসুস্থতা নয়, এটি একটি জরুরি চিকিৎসাসংক্রান্ত বিপদ। তাই সামান্য অস্বস্তি অনুভব করলেই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং শীতল আশ্রয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *