২০২৬-এ কি কমবে সোনা-রুপোর দাম? জুন মাসে কি বড় পতন? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মতামত

সোনার দরে বড় পতন কি আসন্ন? অস্থির বাজারে দিশা খুঁজছেন বিনিয়োগকারীরা
২০২৬ সালের শুরু থেকেই বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপোর দাম এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের রেকর্ড ভাঙা দামের পর চলতি বছরের শুরুতেই সোনা ও রুপোর দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছিল। তবে বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা হতাশ করে মূল্যবান ধাতু দুটির দাম কমতে শুরু করেছে। মে মাসের শেষে এসে সোনার আন্তর্জাতিক দাম আউন্স প্রতি ৪,৪৬৩ ডলারে এবং রুপোর দাম ৭৪ ডলারে নেমে এসেছে।
মূল্য হ্রাসের নেপথ্যে ভূ-রাজনৈতিক ও আর্থিক কারণ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনার বিকল্প হিসেবে তেলসহ অন্যান্য খাতে মূলধন সরিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনাও একটি বড় কারণ। ব্যাংকে জমার ওপর বেশি সুদ পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছেন, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দামের ওপর।
জুন মাসে বাজারের সম্ভাব্য গতিপ্রকৃতি
জুন মাসে দামের প্রবণতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশের ধারণা, এশিয়ায় বিয়ের মৌসুম না থাকায় সোনার দাম আরও ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে বিশ্ব পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে অথবা মার্কিন ডলারের মান পড়ে গেলে জুন মাসের শেষ নাগাদ সোনার দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, শিল্পক্ষেত্রে চাহিদা বেশি থাকায় রুপোর দরপতন সোনার তুলনায় কিছুটা সীমিত থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক বার্তা
গত এক বছরে সোনা ও রুপো থেকে যথাক্রমে ৩৬ ও ১৩৩ শতাংশ মুনাফা পাওয়া গেছে। সেই নিরিখে বর্তমানের দরপতনকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের একটি সুযোগ হিসেবেই দেখছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। তবে ঝুঁকি এড়াতে মোট পোর্টফোলিওতে ৫ থেকে ১০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ মূল্যবান ধাতুতে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গোল্ড কয়েন, বার বা ইটিএফ (ETF)-এর মাধ্যমে ডিজিটাল সোনা কেনাকে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। বিনিয়োগের যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি।