জনরোষের মুখে দুই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক: কালনায় ধৃত দেবপ্রসাদ, কাটোয়ায় হেনস্থার শিকার রবীন্দ্রনাথ
জনরোষের মুখে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতা, কোমরে দড়ি দেবপ্রসাদের!
পূর্ব বর্ধমান জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে জনরোষের জেরে অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসকদল। মঙ্গলবার তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কালনার প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ ওরফে পল্টুকে। অন্যদিকে, সরকারি ত্রিপল পাচারের অভিযোগ তুলে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে কাটোয়ার বর্ষীয়ান প্রাক্তন বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে। তৃণমূলের হাত থেকে ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বার বার রাজপথে বেরিয়ে আসছে।
জনরোষের কবলে দুই প্রাক্তন বিধায়ক
মঙ্গলবার সকালে কাটোয়ার স্টেশন বাজারের কাছে সরকারি ত্রিপল পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন ৭৮ বছর বয়সী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ, প্রকাশ্য রাস্তায় তাঁকে রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং তাঁর দিকে ডিম ছোড়া হয়। শারীরিকভাবেও হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় তিনি কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, তোলাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কালনার প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগকে মঙ্গলবার আদালতে তোলার সময়ও জনতা ‘চোর’ স্লোগান দেয় এবং তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও জনরোষের হাত থেকে বাঁচাতেই তাঁকে প্রথমে নাদনঘাট থানায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিক্রয়া
দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেতাদের বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য ক্ষোভ রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিরোধীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা জনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির জেরেই মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ। তবে তৃণমূলের একাংশ একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে দাবি করেছে, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে মিথ্যে অভিযোগে তাদের নেতাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। দুই নেতার বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে, যার মধ্যে দেবপ্রসাদকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ক্রমাগত এই ধরণের ঘটনা শাসকদলের স্থানীয় স্তরের নেতাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।