দুর্গাপুরে ক্ষোভের আগুন, সরকারি লাল ফিতের ফাঁসে শিল্প হারিয়ে গুজরাটে কর্মসংস্থান!
দুর্গাপুরে শিল্পের নামে লাল ফিতের ফাঁস, ভিন রাজ্যে পাড়ি দিলেন শিল্পপতিরা
দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চলে সরকারি সহায়তার অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নর্থ দুর্গাপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত এক সেমিনারে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে, আগের সরকারের শিল্পনীতির গলদ ও সিন্ডিকেট দৌরাত্ম্যের কারণে শিল্পপতিরা বাধ্য হয়ে ভিন রাজ্যে ব্যবসা স্থানান্তর করছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজ্যের কর্মসংস্থানে।
গুজরাটে হাজারো কর্মসংস্থান ও পশ্চিমবঙ্গের দৈন্যদশা
বিশিষ্ট শিল্পপতি পার্থ ঘোষ নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, দুর্গাপুরে কারখানা সম্প্রসারণের জন্য জমি চেয়েও আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন সংস্থার (এডিডিএ) অসহযোগিতার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। দিনের পর দিন ডিস্ট্রিক্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেন্টারে ঘুরেও কোনো সমাধান মেলেনি। শেষপর্যন্ত তিনি গুজরাটে কারখানা স্থাপন করতে বাধ্য হন। বর্তমানে ওই কারখানায় ৯০০ জন কর্মসংস্থান হয়েছে এবং উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের ২৪টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। শিল্পপতির আক্ষেপ, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা পেলে এই ৯০০ কর্মসংস্থান পশ্চিমবঙ্গেই হতো। একইসাথে তিনি অভিযোগ করেন, আগের আমলে নিয়মিত সিন্ডিকেটের হুমকির মুখে পড়তেন ব্যবসায়ীরা।
শিল্পায়নের পথে অন্তরায় ও উত্তরণের উপায়
সেমিনারে উপস্থিত শিল্পপতি মনোজ সরাফের মতে, রাজ্যের ছোট ও মাঝারি কারখানায় এখন কার্যত নিয়োগ বন্ধ। অথচ গুজরাটের মতো রাজ্যে প্রচুর কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি আসানসোল-দুর্গাপুর অঞ্চলকে স্পেশাল ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলা এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি কারখানার জমি বেসরকারি শিল্পপতিদের হস্তান্তরের দাবি তুলেছেন। শিল্পপতিদের মতে, এই অঞ্চলের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, সমুদ্র বন্দর নির্মাণ এবং সরকারি সাবসিডি নিশ্চিত করতে পারলে তবেই বাংলায় শিল্পের জোয়ার ফিরবে। সেমিনারে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ ও বিনিয়োগকারীদের পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্পাঞ্চলে আইটি সেক্টর ও ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।