ফ্যাটি লিভারের নেপথ্যে মদ্যপান নয়, বরং এই এক পুষ্টি উপাদানের অভাবই আসল কারণ!

লিভারে মেদ জমার সমস্যার জন্য সাধারণত মদ্যপান বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে দায়ী করা হয়। তবে সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণায় উঠে এসেছে এক নতুন তথ্য। শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে ও কোষে কোষে মেদ জমতে বাধা দিতে কোলিন নামক এক বিশেষ পুষ্টি উপাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরে এই উপাদানের ঘাটতি দেখা দিলে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং যকৃতের চারপাশে চর্বির স্তর জমতে শুরু করে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
কেন শরীরে কোলিন অপরিহার্য
কোলিন ভিটামিন বা খনিজ না হলেও শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে এটি অপরিহার্য। এটি মস্তিষ্কের বিকাশ, স্মৃতিশক্তি, পেশির সঞ্চালন ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে। শরীর সামান্য পরিমাণ কোলিন তৈরি করতে পারলেও মূলত খাবারের মাধ্যমেই এর চাহিদা পূরণ করতে হয়। কোলিনের ঘাটতি হলে লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে। এছাড়া গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক বিকাশেও এই উপাদানের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
প্রাকৃতিক উপায়ে কোলিনের চাহিদা পূরণ
চিকিৎসকদের মতে, সাপ্লিমেন্টের চেয়ে প্রাকৃতিক খাবার থেকে কোলিন গ্রহণ করা অনেক বেশি নিরাপদ। ডিমের কুসুম কোলিনের অন্যতম সেরা উৎস। এছাড়া মুরগির মাংস, ছোট মাছ ও লিভার বা মেটেতেও প্রচুর পরিমাণে কোলিন পাওয়া যায়। নিরামিষাশীদের ক্ষেত্রে সয়াবিন, সয়া চাঙ্ক, ডালিয়া, কিনোয়া, ফুলকপি, ব্রকোলি ও মাশরুম কোলিনের জোগান দিতে সাহায্য করে। রোজকার ডায়েটে চিনেবাদাম, কাঠবাদাম বা আখরোট রাখলে শরীরের প্রয়োজনীয় কোলিনের চাহিদার একটি বড় অংশ সহজেই পূরণ করা সম্ভব।