কলকাতার মসনদে প্রশাসক কি বসছে? ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিল রাজ্য

মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের আকস্মিক ইস্তফার পরই কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মেয়র পদ ছাড়ার পরপরই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পুরসভার কমিশনার, পুরসচিব ও সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরবোর্ড কেন ভেঙে দেওয়া হবে না। এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
পুর আইনের মারপ্যাঁচে আইনি জটিলতা
১৯৮০ সালের পুর আইনের ১১৭/১ ধারা অনুযায়ী, কোনো পুরসভা যদি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয় বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তবে রাজ্য সরকার সেই পুরসভাকে অযোগ্য ঘোষণা করে বোর্ড ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়র ইস্তফা দেওয়ার পর ডেপুটি মেয়র বা মেয়র পারিষদদের আর কোনো আইনগত বৈধতা থাকে না। সাধারণত মেয়র অসুস্থ হলে সাময়িকভাবে কাজ চালানো সম্ভব হলেও, ইস্তফার ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই। ফলে পুরবোর্ডের অস্তিত্ব এখন সংকটের মুখে।
নবান্ন সূত্রে খবর, যদি পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়, তবে পরবর্তী পুরনির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকেই প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
ইস্তফার নেপথ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন
মেয়াদ শেষের পাঁচ মাস আগেই ফিরহাদ হাকিমের এই পদত্যাগ রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। বিদায়ী মেয়র অভিযোগ করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরসভার সাধারণ কাজকর্ম পরিচালনা করাও আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। চেয়ারের মর্যাদা রক্ষা করতেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য দলের কাউন্সিলরদের সাথে জরুরি বৈঠকের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরের ব্যস্ততার মধ্যেই ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।