শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যন্তরমন্তরে আরশোলাদের গর্জন!

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল দিল্লির যন্তরমন্তরে রাজপথ। শনিবার সেখানে এক অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা তথা পেশায় প্রযুক্তিবিদ অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তীব্র হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। তীব্র গরমের মাঝেই সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যন্তরমন্তরে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে দিল্লি পুলিশ।
ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন থেকে রাজপথের লড়াই
সম্প্রতি দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর মতে, তরুণ-তরুণীদের এই অংশটি অন্য পেশায় সুযোগ না পেয়ে সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা আরটিআই কর্মী হিসেবে কাজ করে সবাইকে আক্রমণ করে। প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের প্রতিবাদে গত ১৬ মে একটি অনলাইন স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র জন্ম হয়। অতি দ্রুত সমাজমাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া এই সংগঠনটি এবার নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষায় সরাসরি রাজপথে নেমেছে। আন্দোলনকে বেগবান করতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন প্রযুক্তিবিদ অভিজিৎ দীপকে।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অভিনব কৌশল ও দূরদর্শী প্রভাব
যন্তরমন্তরের এই জমায়েতকে সম্পূর্ণ অহিংস ও সুশৃঙ্খল রাখতে সিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সমর্থকদের জন্য একগুচ্ছ বাস্তবসম্মত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। শিক্ষার অধিকারের প্রতীক হিসেবে সমর্থকদের হাতে বই এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে হাজির হতে বলা হয়। পাশাপাশি, পুলিশের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে ভিডিও রেকর্ডিং, উস্কানি এড়ানো এবং দিল্লির তীব্র গরম থেকে বাঁচতে সানস্ক্রিন ও পর্যাপ্ত জল সঙ্গে রাখার মতো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। বিমানবন্দরে নেমেই পুলিশের লিখিত অনুমতি পাওয়া এই সংগঠনের প্রধানের হাতে দেশের সংবিধান প্রণেতা ডঃ বিআর আম্বেদকরের আত্মজীবনী দেখা যায়, যা আন্দোলনের গভীরতাকে প্রকাশ করে।
এই আন্দোলনের মূল কারণ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিপর্যয় ও যুবসমাজের প্রতি শীর্ষস্তরের অবমাননাকর মন্তব্য। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে দেশজুড়ে পরীক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ আরও সংগঠিত রূপ নিতে পারে। নিজের গ্রেফতারির আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভয়ের দিন শেষ এবং সংবিধানের পথ ধরেই এই লড়াই চলবে। ফলে আগামী দিনে নিট কেলেঙ্কারি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ যে আরও বাড়বে, সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে এই ‘ককরোচ আন্দোলন’।