গিলগিট বালটিস্তান ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, পাক নির্বাচনের মাঝেই কড়া বার্তা নয়াদিল্লির

অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তানে পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে নির্বাচনের আয়োজন করাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী রবিবার সেখানে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে ইসলামাবাদকে কড়া বার্তা দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির সাফ কথা, গিলগিট-বালটিস্তান ভারতের অংশ এবং পাকিস্তান এটি বেআইনি ও বলপূর্বক দখল করে রেখেছে।
নয়াদিল্লির তীব্র প্রতিবাদ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার মধ্যে গিলগিট-বালটিস্তানও অন্তর্ভুক্ত। পাকিস্তান বেআইনিভাবে এই ভূখণ্ড দখল করে সেখানে ধারাবাহিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং অর্থনৈতিক শোষণ চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই বিতর্কিত অঞ্চলে পাকিস্তান কোনো রকম বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করলে তার তীব্র বিরোধিতা করা হবে এবং অবিলম্বে ভারতকে এই ভূখণ্ড খালি করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানকে তোপ
এই উত্তেজনার আবহেই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করায় পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, পাকিস্তান নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক মঞ্চের অপব্যবহার করছে। জম্মু ও কাশ্মীর সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং পাকিস্তানের কোনো রকম ভিত্তিহীন ও ঐতিহাসিক তথ্যবর্জিত দাবি এই সত্যকে পরিবর্তন করতে পারবে না।
পাক নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
রবিবারের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খোদ পাকিস্তানের অন্দরে ও আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের ফলাফল যাতে পাক সরকারের অনুকূলে থাকে, তার জন্য সেখানকার প্রধান বিরোধী নেতাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই নির্বাচনে এমন কিছু রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে যাদের সাথে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সরাসরি যোগ রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯৭ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পাকিস্তানেই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি)-এর মতো দলগুলোর এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি ভারতের নিরাপত্তাকে আরও বিঘ্নিত করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।