জাল নথি দিয়ে বাংলাদেশিদের আশ্রয়! দিল্লির হোটেল মালিকের কীর্তিতে শোরগোল

দিল্লির ফ্লারিশ স্টে হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বুধবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, টাকার বিনিময়ে এই হোটেল ব্যবসায়ী বাংলাদেশিদের জন্য জাল পরিচয়পত্র তৈরির সুযোগ করে দিতেন। অভিযোগ, নিজের ছত্তরপুরের আবাসিক ঠিকানা ব্যবহার করতে দিয়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ভারতীয় পাসপোর্ট ও [Aadhaar Redacted] কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জোগাড় করতে সহায়তা করতেন তিনি।
জালিয়াতি চক্রের অন্ধকার দিক
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি পাহাড়গঞ্জ থানার পুলিশ প্রথম এই চক্রের হদিস পায়। সে সময় মধ্য দিল্লির একটি বাড়ি থেকে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারের দুই সদস্যকে আটক করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে একই মহিলার নামে একাধিক পাসপোর্ট এবং একই ছবি সম্বলিত বিভিন্ন আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়। জেরায় লভকেশ বাজাজ স্বীকার করেন যে, মোটা টাকার বিনিময়ে তিনি ওই পরিবারকে তাঁর নিজের ঠিকানা ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছিলেন, যা ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে জাল পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়েছিল।
নিরাপত্তার প্রশ্নে বড় ঝুঁকি
এই জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস হওয়ার পর থেকেই দিল্লির হোটেল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুধু পরিচয়পত্র জালিয়াতি নয়, হোটেলটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর একাধিক গাফিলতির অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি সামনে আসতেই দিল্লি সরকারের কাছে শহরের সমস্ত হোটেল, রেস্তরাঁ ও ব্যাঙ্কোয়েট হলের নিরাপত্তা ও নথিপত্র অবিলম্বে নতুন করে পর্যালোচনা করার দাবি জোরালো হচ্ছে। অবৈধভাবে বসবাসকারীদের এভাবে জাল নথি ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লভকেশ বাজাজের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।