দল ভাঙার আশঙ্কায় এবার তড়িঘড়ি দিল্লি ছুটলেন অভিষেক, লোকসভাতেও কি বড় ধাক্কা খাচ্ছে তৃণমূল?

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার পর এবার লোকসভা সাংসদদের মধ্যেও বড়সড় ভাঙনের জল্পনা তীব্র হয়ে উঠেছে। নিজেদের দলের অন্দরে এই ফাটল রুখতে এবং সাংসদদের ধরে রাখতে তড়িঘড়ি দিল্লি পাড়ি দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের সূত্র অনুযায়ী, শাসক দলের বেশ কয়েকজন লোকসভা সাংসদ বর্তমানে বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং যেকোনো মুহূর্তে দলত্যাগের ঘোষণা করতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে দলের রাশ শক্ত করতেই অভিষেকের এই আকস্মিক দিল্লি সফর বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদ্রোহের নেপথ্যে কাকলি এবং শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠক
তৃণমূলের অন্দরে এই সাম্প্রতিক সংকটের সূত্রপাত লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে আচমকা চিফ হুইপের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন। এরপর দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠকে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। উল্টে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা একটি প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দেয়। বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বেই তৃণমূলের একদল সাংসদ বিদ্রোহী গোষ্ঠী তৈরি করতে চলেছেন, যা লোকসভায় দলটিকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে। ইতিমধ্যেই বিধানসভায় দলের ৫৮ জন বিধায়ক বিদ্রোহী হয়ে আলাদা শিবির গড়েছেন, যার বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই একই মডেল লোকসভাতেও দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের আগে বাড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ
আগামী ৮ জুন দিল্লিতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একটি হাই-ভোল্টেজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই বৈঠকের ঠিক আগেই বাংলায় তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি শুভঙ্কর সরকার দাবি করেছেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে আসলে একটি ‘ছায়া তৃণমূল’ তৈরি করেছে। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী রাজনীতিকে দুর্বল করতে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও ভাঙনে পরোক্ষ মদদ দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী জোটের প্রধান মুখ হিসেবে রাহুল গান্ধীর প্রাধান্য অনেক বেড়েছে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর পূর্বের অবস্থান ও গুরুত্ব অনেকটাই হারিয়েছেন। দিল্লির হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের আগে সাংসদদের এই সম্ভাব্য দলবদল রুখতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।