চলন্ত ট্রেন থেকে খুলে গেল বগি, লুধিয়ানায় বড়সড় বিপত্তি বৈষ্ণোদেবী স্পেশালে

শনিবার সকালে পাঞ্জাবের লুধিয়ানা স্টেশনে এক ভয়াবহ যান্ত্রিক ত্রুটির সাক্ষী থাকলেন নিউদিল্লি-শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী কাটরা স্পেশাল ট্রেনের যাত্রীরা। স্টেশন ছাড়ার ঠিক পরপরই ট্রেনের একটি কোচ মাঝপথেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিকট শব্দে কামরাটি খুলে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে প্রায় ১২০০ যাত্রীর মধ্যে। প্রাণের ভয়ে অনেকে চলন্ত ট্রেন থেকেই নেমে পড়ার চেষ্টা করেন, যার ফলে স্টেশনে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে আতঙ্ক
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ট্রেনটি লুধিয়ানা স্টেশনে নির্ধারিত বিরতির পর সবে গতি বাড়াতে শুরু করেছিল। সেই সময়ই কামরা সংযোগকারী অংশে বিকট শব্দ হয় এবং কোচটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যাত্রীরা প্রাথমিক ভাবে কোনো বড়সড় বিস্ফোরণের আশঙ্কা করেছিলেন। তবে রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো নাশকতা বা বিস্ফোরণ নয়, বরং কোচের কাপলার বা সংযোগকারী যন্ত্রাংশ ভেঙে যাওয়ার ফলেই এই বিপত্তি ঘটেছে। লুধিয়ানার এডিসিপি সমীর ভার্মা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের প্রমাণ মেলেনি। ফিরোজপুর ডিভিশনের ডিআরএম সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত কোচটির বয়স ১৫ বছর। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ার সময় কম গতিতে থাকায় বড় কোনো প্রাণহানি বা বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা। তবে এই ঘটনায় রেলের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। যাত্রীদের অভিযোগ, নয়াদিল্লি থেকেই কোচটির অবস্থা জরাজীর্ণ ছিল এবং সেটি নিয়ে তাদের মনে আগে থেকেই সংশয় ছিল। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই ১৫ বছর বয়সী একটি কোচের এমন যান্ত্রিক বিপর্যয় ঘটল কি না, তা নিয়ে এখন জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের রিপোর্ট এলেই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।